কলকাতা পুরসভায় চরম নাটক! ওয়েবসাইট থেকে আচমকা উধাও ফিরহাদ হাকিমের ছবি, তবে কি মেয়রের দিন শেষ?

কলকাতা পৌরনিগমে (KMC) নজিরবিহীন প্রশাসনিক ডামাডোল! বরো চেয়ারম্যান দেবলীনা বিশ্বাসের আকস্মিক পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তড়িঘড়ি বদলি করে দেওয়া হল পুরসভার সচিবকে। আর এই চরম উত্তেজনার আবহেই বৃহস্পতিবার এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল কলকাতা পুরসভার নিজস্ব ওয়েবসাইটে। আচমকাই উধাও হয়ে গেল খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) ছবি!

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়। প্রশ্ন উঠতে থাকে— তবে কি কলকাতার মেয়র পদ ছাড়ছেন ‘ববি’? নাকি এর পেছনে রয়েছে দলের কোনো কঠোর বার্তা? বিতর্ক চরম আকার ধারণ করতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর কমিশনারের অফিস থেকে জরুরি নির্দেশ যেতেই তড়িঘড়ি মেয়রের ছবি আবার ওয়েবসাইটে ফিরিয়ে আনা হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই ‘অন্তর্ধান’ নাটককে কেন্দ্র করে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

নেপথ্যে কি নির্বাচনী বিপর্যয় ও মমতার ক্ষোভ?

রাজনৈতিক ও পুরসভা সূত্রে খবর, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শহরের এই নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই পুরসভার কাজের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিশেষ করে, তিলজলায় বুলডোজার চালানো থেকে শুরু করে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার নোটিস পাঠানোর মতো একাধিক স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, নেত্রীর এই বারবার ক্ষোভ প্রকাশে অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুণ্ণ খোদ ফিরহাদ হাকিমও। তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে নিজেকে ‘ব্যর্থ মেয়র’ হিসেবে দাবি করেছেন এবং এই পদ আর আঁকড়ে ধরে রাখতে চান না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ: দলের ভেতরের একাংশের দাবি, বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মেয়র নিজেই হয়তো ক্ষোভ থেকে ওয়েবসাইট থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সমীকরণ বদলেছে রাজ্যে, বাড়ছে সংঘাত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার পেছনে মূলত দু’টি বড় সম্ভাবনা দেখছেন:

  • প্রথমত, দলের ওপর এবং পুর-প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ মেয়র নিজেই হয়তো নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে কোনো প্রচ্ছন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন।

  • দ্বিতীয়ত, রাজ্যে বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ায় এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসায় আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল চলছে। ফলে কমিশনার ও মেয়রের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের জেরেও এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

একদিকে বরো চেয়ারম্যানের ইস্তফা, অন্যদিকে পুর-সচিবের আকস্মিক বদলি এবং মেয়রের ছবি উধাও—সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার রাশ এই মুহূর্তে আসলে কার হাতে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। পুরসভার অন্দরের এই ফাটল আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy