কলকাতা জুড়ে জমি দখলের মহোৎসব! ইডি-র স্ক্যানারে একের পর এক প্রভাবশালী কাউন্সিলর

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জমি কেলেঙ্কারি এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ে তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুর প্রতিনিধি সরাসরি এই জমি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। বাইপাস সংলগ্ন এলাকার এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের ভূমিকাও এখন ইডি-র স্ক্যানারে। তদন্তকারী অফিসারদের মতে, শুধুমাত্র জমি দখল নয়, জমির চরিত্র বদল এবং বেআইনি নির্মাণের অনুমতির ক্ষেত্রেও এই কাউন্সিলরদের বড়সড় হাত রয়েছে।

এই তদন্তের সূত্রপাত প্রাক্তন ডিসি (ইস্ট) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতারের পর। ইডি-র দাবি, শান্তনু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিকরা প্রোমোটারদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে সিন্ডিকেট চক্র চালাতেন। তদন্তে উঠে এসেছে ‘জয় কামদার’ এবং ‘সোনা পাপ্পু’ নামের দুই ব্যক্তির নাম, যারা টাকা ও উপহারের বিনিময়ে স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাজে লাগাত। জমি দখলের ক্ষেত্রে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের জমি কম দামে হাতিয়ে নেওয়া—সবক্ষেত্রেই কাউন্সিলরদের এলাকাভিত্তিক ‘রেট চার্ট’ ছিল। স্কয়ার ফুট অনুযায়ী টাকা পৌঁছে যেত সরাসরি কাউন্সিলর বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে।

ইডি-র নজরে রয়েছে গত ১০ বছরে একাধিক কাউন্সিলরের আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির তালিকা। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এসেছে সিন্ডিকেট চক্রের তোলাবাজি থেকে। দুর্নীতির এই কালো টাকা সাদা করার জন্য ঘুরপথে সোনা পাপ্পুর নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৩০টি নির্মাণকারী সংস্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর এবং আলিপুরের জমি রেজিস্ট্রি অফিসে চিঠি পাঠিয়ে গত এক দশকের একাধিক জমি সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে ইডি।

জমি দখল কাণ্ডে বেশ কয়েকজনের বয়ান রেকর্ড করেছেন ইডি আধিকারিকরা। সেই বয়ানের সূত্র ধরে জানা যাচ্ছে, সিন্ডিকেটের এই চক্রে পুলিশ এবং স্থানীয় পুর প্রতিনিধিদের মধ্যে এক অশুভ আঁতাত ছিল। ইডি এখন সেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম খুঁজছে, যাদের কাছে এই দুর্নীতির টাকা পৌঁছেছিল। অদূর ভবিষ্যতে এই মামলায় একাধিক পুর প্রতিনিধিকে তলব করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় মহানগরীর রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy