কর্ণাটকে আরএসএস-এর রুট মার্চ, অনুমতি দিতেই হবে, সরকারকে সরাসরি নির্দেশ হাইকোর্টের

কালবুর্গি, কর্ণাটক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) রুট মার্চ নিয়ে মামলায় কর্ণাটক হাইকোর্ট (Karnataka High Court) সরাসরি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল। কালবুর্গি জেলার চিত্তাপুরে আগামী ২ নভেম্বর রুট মার্চ করার জন্য আরএসএস-এর আবেদনটি নতুন করে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

এই মামলায় বিচারপতি এম জি শুকরে কামাল এক বিশেষ অধিবেশনে বসেছিলেন। তিনি রাজ্য ও জেলা কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই রিপোর্টে আরএসএস-এর প্রস্তাবিত রুট মার্চটির জন্য পথ, স্থান এবং সময়-সহ কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ থাকতে হবে।

কেন আদালতে গেল আরএসএস?
আরএসএস-এর কালবুর্গি জেলার আহ্বায়ক অশোক পাটিল সংগঠনের শতবর্ষ ও বিজয়া দশমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রথমে ১৯ অক্টোবর রুট মার্চের অনুমতি চেয়েছিলেন। ১৩ অক্টোবর পৌর কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শকের কাছে আবেদন জমা দিলেও, সেই আবেদনগুলি অ-উত্তরিত থেকে যায়। পরে তহশিলদার এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে জানালেও কোনো উত্তর আসেনি।

অবশেষে, ১৮ অক্টোবর তালুক ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় আরএসএস-এর আবেদন খারিজ করে দেন। ম্যাজিস্ট্রেট জানান, একই সময়ে ও একই স্থানে ভীম আর্মি এবং ভারতীয় দলিত প্যান্থার-এর মতো আরও কয়েকটি গোষ্ঠী সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছিল। এর ফলেই সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়।

হাইকোর্টে সরকারের প্রতিশ্রুতি
এই পরিস্থিতিতে আরএসএস-এর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট অরুণ শ্যাম ২ নভেম্বর বিকল্প তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করেন। এর পরই মামলাটি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেল শশী কিরণ শেট্টি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত তারিখে আরএসএস-এর অনুষ্ঠানের জন্য সরকার একটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘শান্তি বজায় রাখতে নাগরিকদেরও সহযোগিতা চাই’
হাইকোর্ট এই মামলার শুনানিতে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(বি) (সমাবেশের অধিকার) এবং অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ডি) (স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার) এর কথা উল্লেখ করে। আদালত মনে করিয়ে দেয় যে এই অধিকারগুলি ‘যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ’-এর সাপেক্ষে, যা কর্ণাটক পুলিশ আইনের মতো আইনেই বলা আছে।

আদালত স্বীকার করেছে যে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে আদালত জোর দিয়ে বলেছে, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য নাগরিকদেরও সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।

আদালতের মতে: “চূড়ান্তভাবে, রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছেই আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। নাগরিক বা সংগঠনের আবেদন মঞ্জুর বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে তারাই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনশান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।”

হাইকোর্ট আরএসএস-এর আবেদনকারীকে নতুন করে সম্পূর্ণ বিবরণ-সহ একটি আবেদন জমা দিতে বলেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষকে আইন মেনে সেই আবেদন বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আগামী ২৪ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

আরএসএস-এর রুট মার্চ নিয়ে তৈরি হওয়া এই সংঘাতের পরিস্থিতি DailyHunt-এর পাঠকদের জন্য অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। এই প্রতিবেদনটি কি আপনি আরও কোনো নির্দিষ্ট দিকে বা আঙ্গিকে সাজাতে চান

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy