পতপত করে উড়ছে লাল নিশান। মাইকে বাজছে দক্ষিণী সিনেমার চটুল গান, আর রাস্তার দখল নিয়েছে শয়ে শয়ে চারচাকা গাড়ি। এ কোনো পুরনো জমানার স্মৃতি নয়, ২০২৬-এর ভোট মরশুমে উত্তর দিনাজপুরের করনদিঘির টাটকা ছবি। যেখানে কাস্তে-হাতুড়ি-তারা যখন রাজ্যে কোণঠাসা, সেখানে ‘ভাইজান’ হাজি সাহাবুদ্দিনের ম্যাজিকে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে যে জনপ্লাবন তিনি তৈরি করলেন, তাতে খোদ আলিমুদ্দিনের কর্তারাও অবাক।
কে এই সাহাবুদ্দিন? পেশায় বিড়ি ব্যবসায়ী এই নেতাকে বিমান বসুও ভালোবেসে ‘বিড়িওয়ালা’ ডাকেন। নিজের কারখানার হাজার হাজার শ্রমিকের কাছে তিনি ‘মসীহা’। পরনে লুঙ্গি আর সাদা শার্ট, গলায় কাস্তে-হাতুড়ি-তারা উত্তরীয়। তাঁর বিড়ির ব্র্যান্ডের নামও ‘তারা’। ২০০৩ সালে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ থাকা সাহাবুদ্দিন ২০১১-এর পর কিছুটা অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ময়দানে ফিরতেই বদলে গিয়েছে চেনা ছবি। ২০২১ সালে যে আসনে তৃণমূল ৩৭ হাজার ভোটে জিতেছিল, সেখানে সাহাবুদ্দিনের এই উত্থান শাসক ও বিরোধী— উভয় শিবিরের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। করনদিঘির মানুষ কি তবে এবার সাহাবুদ্দিনের মধ্যেই সিপিএমের সেই হারানো ‘তারা’ খুঁজে পেলেন? প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে।





