লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় তুঙ্গে পৌঁছে গেল। ভোটার তালিকায় ‘কারচুপি’ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতিত্বের’ গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ৬ মার্চ কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে এক মেগা ধরনা কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের এই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রবিবার এই বড় ঘোষণা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক বৈধ এবং প্রকৃত ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিষেক সাফ জানিয়েছেন, “যাঁরা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং এই রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা কেবল প্রশাসনিক ভুল নয়, এটা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর এক বিরাট আঘাত এবং সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” তৃণমূলের দাবি, বিশেষ করে শাসক দলের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলিতেই এই ‘ছাঁটাই’ অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ সংস্থা হওয়া উচিত, কিন্তু বর্তমানে তাদের কাজকর্মে একপেশে মনোভাব স্পষ্ট। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।” ৬ মার্চের এই ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই ‘পক্ষপাতিত্ব’ এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘ইঙ্গিতে চলা’র বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং বকেয়া আদায়ের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই একই জায়গায় ধরনায় বসেছিলেন। এবার তাঁর হাতিয়ার—ভোটার তালিকা।
তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলা স্তরে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে যাতে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা তৈরি করা হয়। ৬ তারিখের ধরনা থেকে সেইসব তথ্য জনসমক্ষে আনা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির অভিযোগের পালটা দিতেই তৃণমূল এবার আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে এই ধরনা কমিশনকে প্রবল চাপের মুখে ফেলবে। একদিকে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ, অন্যদিকে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল থেকে নতুন কোনো রাজনৈতিক ঝড়ের সংকেত দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।