২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একগুচ্ছ নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। এবার থেকে শুধু সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীরাই নন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও সরাসরি নির্বাচনের ডিউটিতে (Poll Duty) মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ব্যাহত না করে কীভাবে চিকিৎসকদের কাজে লাগানো যায়, তার জন্য জেলা শাসকদের বিশেষ গাইডলাইন পাঠিয়েছে কমিশন।
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে যে সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, চাকরিহারা বা বর্তমানে আইনি জটে কাজ হারানো কোনো শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী কোনোভাবেই নির্বাচনের কোনো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। তাঁদের নাম নির্বাচন ডিউটির তালিকা থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO)।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কারণ:
কর্মী সংকট মোকাবিলা: রাজ্যে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ ভোটকর্মী প্রয়োজন। সেই ঘাটতি মেটাতেই চিকিৎসকদের মতো প্রথম সারির আধিকারিকদের এই কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা।
স্বচ্ছতা বজায় রাখা: চাকরিহারা শিক্ষকদের নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে তাঁদের নির্বাচনের কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা হচ্ছে।
জরুরি ব্যবস্থা: ভোটকেন্দ্রে বা সেক্টর অফিসে চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে ভোটার ও ভোটকর্মীদের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাও অনেক দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে ভোটকর্মীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা সময়সূচিও নির্ধারণ করা হতে পারে। কমিশনের এই ‘অপ্রত্যাশিত’ পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





