নির্বাচন বিধি কার্যকর হওয়ার পর শিলিগুড়ি পৌরনিগমের নিয়মিত কর্মসূচি ‘টক টু মেয়র’ বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের যুক্তি ছিল, সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই ধরণের অনুষ্ঠান নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করতে পারে। কিন্তু শিলিগুড়ির মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার এই পথ বন্ধ হতেই বিকল্প রাস্তা বের করে ফেললেন মেয়র গৌতম দেব। দলীয় স্তরে এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি চালু করলেন ‘গৌতমকে বলো’ (Goutam Ke Bolo) কর্মসূচি।
কমিশনের নিষেধাজ্ঞা ও গৌতমের পাল্টা চাল: শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র হিসেবে গৌতম দেব প্রতি শনিবার ফোনে সরাসরি নাগরিকদের সমস্যা শুনতেন। কিন্তু ভোটের মুখে কমিশন সেই সরকারি ফোন লাইন ও পরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর পরেই তৃণমূলের আইটি সেল ও নির্বাচনী কমিটির পরামর্শে একটি নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও কল সেন্টার চালু করা হয়। ‘গৌতমকে বলো’ নাম দিয়ে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিলিগুড়ির বাসিন্দারা সরাসরি প্রার্থীর কাছে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন।
কেন এই নয়া কর্মসূচি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়িতে এবার তৃণমূলের লড়াই বেশ কঠিন। বিশেষ করে শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার আক্রমণ শানানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ‘টক টু মেয়র’ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া। সেই ফাঁক ভরাট করতেই দিদির ‘দিদিকে বলো’-র আদলে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে না, অন্যদিকে জনসংযোগেও কোনো ছেদ পড়ছে না।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া: বিজেপি এবং বামফ্রন্ট অবশ্য এই নতুন পদক্ষেপকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের দাবি, সরকারি কাজ বন্ধ হওয়ায় গৌতম দেব এখন ‘গিমিক’ করছেন। বিরোধীদের মতে, মেয়রের চেয়ারে বসে গত কয়েক বছরে যে সমস্যার সমাধান হয়নি, তা এখন ফোন করে সমাধান হবে বলে দাবি করা হাস্যকর। তবে পাল্টা জবাবে গৌতম দেব জানিয়েছেন, “পরিষেবা দেওয়া আমার কাজ, সেটা সরকারি মাধ্যম হোক বা ব্যক্তিগত—মানুষের পাশে থাকাই আমার অগ্রাধিকার।” ২০২৬-এর শিলিগুড়ি লড়াইয়ে এই ‘ফোন-পলিটিক্স’ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।