১৯৫৯ সাল থেকে লাল ফিতের ফাঁসে আটকে থাকা স্বপ্ন অবশেষে ডানা মেলল। দীর্ঘ সাত দশকের বঞ্চনা আর চোখের জলের অবসান ঘটিয়ে বুধবার সিঙ্গুরের মাটি থেকে ঐতিহাসিক ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিলে। কেন্দ্রের ‘আর্থিক অবরোধ’কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতার হুঙ্কার— “দিল্লির ভিক্ষার আশায় আর বসে থাকবে না বাংলা।”
মঞ্চে যখন এই ঘোষণা হচ্ছে, তখন আবেগে ভাসছেন ঘাটালের তিনবারের সাংসদ তথা সুপারস্টার দেব। গত ১২ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সেরা জয়টি যেন এদিনই ছিনিয়ে নিলেন তিনি। দেবের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ। তিনি বলেন, “১৯৫৯ সালে মানসিং কমিটি এই সুপারিশ করেছিল। তারপর থেকে এই ফাইল শুধু এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরেছে। কেউ সাহস করেনি, যা দিদি করে দেখালেন।” দেব স্পষ্ট জানান, এটি কেবল রাজনৈতিক জয় নয়, এটি ঘাটাল, কেশপুর, দাসপুরবাসীর বাঁচার লড়াইয়ের জয়।
কেন্দ্রকে ছড়ায় বিঁধলেন মমতা মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। ডিভিসির ছাড়া জলে ঘাটাল-আরামবাগের ডুবে যাওয়াকে ‘ম্যান-মেড বন্যা’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, “কেন্দ্র গত ১০ বছর ধরে শুধু ধোঁকা দিয়েছে।” সরাসরি মোদী সরকারকে নিশানা করে মমতার শ্লেষাত্মক ছড়া— “নাই বা দিল কেন্দ্র টাকা, ওরা দেয় শুধু ধোঁকা, ওদের বানিয়ে বোকা, আমরা দিলাম টাকা!” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে এবং ৩০০ কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে।
উন্নয়নের হাতিয়ারে ২০২৬-এর লক্ষ্য ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সিঙ্গুরের যে জমি থেকে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন মমতা, সেই জমি থেকেই এদিন উন্নয়নের বার্তা দিলেন তিনি। দেবের কথায়, “নির্বাচন কাজের ভিত্তিতে হওয়া উচিত এবং যে সরকার কথা রাখে তাকেই জেতা উচিত।” অন্যদিকে মমতা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, তিনি ‘জুমলা’ নয়, মানুষের সরকারে বিশ্বাসী। কেন্দ্রের টাকা ছাড়াই যে বাংলা নিজের উন্নয়ন করতে সক্ষম, সিঙ্গুরের সভা থেকে সেই বার্তাই গোটা দেশে পৌঁছে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।