বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এক টানটান উত্তেজনার পর মুম্বইয়ের পাওয়াই এলাকা থেকে ১৭ জন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ওয়েব সিরিজের অডিশনের নাম করে ‘আরএ স্টুডিও’-তে ডেকে ৫০ বছর বয়সী রোহিত আর্য নামের এক ব্যক্তি এই শিশুদের পণবন্দি করে রেখেছিল। শেষমেশ পুলিশি অভিযানে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
সিনেমার মতো মনে হওয়া এই ঘটনা রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করে শিশুদের উদ্ধার করে এবং পণবন্দিকারী অভিযুক্তকে খতম করে।
যেভাবে চলল পুলিশি অপারেশন:
দুপুর ১.৩০: পাওয়াই থানায় ফোন আসে মহাবীর ক্লাসিক ভবনের আরএ স্টুডিওয় কয়েকজন শিশুকে আটকে রাখার বিষয়ে।
দুপুর ১.৪৫: পুলিশ, কুইক রেসপন্স টিম, বম্ব স্কোয়াড ও দমকল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরু হয় অভিযুক্ত রোহিত আর্যের (৫০) সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা।
দুপুর ২.১৫: রোহিত একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দাবি করে, মহারাষ্ট্র শিক্ষা দফতরের কাছে তার ২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, সেই কারণে সে শিশুদের আটকে রেখেছে।
দুপুর ২.৪৫: কাচের জানলা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া শিশুদের দেখা যায়। রোহিত আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে এবং স্টুডিওতে আগুন লাগানোর হুমকি দেয়।
বিকেল ৩.১৫: দমকলের সহায়তায় ভবনের ডাক্ট (Duct) ব্যবহার করে পুলিশের দুটি টিম স্টুডিওর ভিতরে ঢোকার পরিকল্পনা করে। একদল কাচ কেটে এবং অন্যদল বাথরুম ভেন্ট দিয়ে এগোতে থাকে।
বিকেল ৪.৩০: শেষবারের আলোচনাতেও রোহিত নতি স্বীকার না করায় পুলিশ গুলি চালায়। গুলিটি রোহিতের বুকে লাগে।
বিকেল ৪.৪৫: সব শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোহিত আর্যকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, রোহিত দরজা-জানালা আটকে নিজেকে ব্যারিকেড করে রেখেছিল এবং তার কাছে একটি এয়ারগান ও দাহ্য স্প্রে ছিল। তবে পুলিশ সব বাধা টপকে শিশুদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শিশুদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোহিত যে ২ কোটি টাকার পাওনা দাবি করেছিলেন, তার কোনো যথাযথ হিসেব বা নথি ছিল না। দফতর দাবি করেছে, রোহিত আর্যর সংস্থা ‘অপ্সরা মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক’ বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রকল্পের জন্য অংশগ্রহণ ফি নিচ্ছিল, কিন্তু বাজেট জমা দেওয়ার সময় কোনো স্পষ্ট নথি বা খরচের বিশদ জমা দেয়নি। ২০২৪ সালের অগাস্টে রোহিতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সংগৃহীত অর্থ সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে নতুন বাজেট দাখিল করতে। নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি সেখানেই থেমে ছিল।





