মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামানোর লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক চালে বিশ্বকে চমকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ইরানের কাছে বন্দী ৮ জন মহিলাকে মুক্তি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দু’দেশের প্রতিনিধিদের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে এটি ট্রাম্পের এক মাস্টারস্ট্রোক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের আর্জি: মঙ্গলবার নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৮ জন ইরানি মহিলার ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “ইরানের নেতাদের বলছি, আমার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার আগে আপনারা যদি এই মহিলাদের মুক্তি দেন, তবে আমি খুব খুশি হব। আলোচনার শুরুটা দারুণ হওয়ার জন্য এটি হবে একটি বড় পদক্ষেপ। দয়া করে ওদের কোনো ক্ষতি করবেন না!”
ইসলামাবাদ বৈঠক ঘিরে রহস্য: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ‘Axios’-এর রিপোর্ট বলছে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি আলোচনার অনুমতি দিলেও ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম (IRIB) দাবি করেছে, তাদের কোনো প্রতিনিধি দল এখনো পাকিস্তানে পৌঁছায়নি। যদিও পাকিস্তানি সূত্রগুলোর দাবি, দুই পক্ষই মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।
কী আছে ‘১০ দফা পরিকল্পনা’য়? ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মূলত একটি ১০-দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। যার মধ্যে রয়েছে:
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
২০২৬-এর চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজা।
হুমকি ও কূটনীতি সমান্তরাল: ট্রাম্প একদিকে যেমন মানবিক আরজি জানিয়েছেন, অন্যদিকে আবার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, চুক্তি ছাড়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে “প্রচুর বোমা ফেলা হবে”। পাল্টা সুর চড়িয়েছে তেহরানও; ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো “ভয়ের ছায়ায়” আলোচনা করবেন না।





