বিশ্ব রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার পারদ! স্নায়ুযুদ্ধের পুরোনো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিউবার মধ্যে সম্পর্ক এবার সংঘাতের মুখে। কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম মহানায়ক তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর (Raul Castro) বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক খুনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ৯৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ওয়াশিংটন। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি সরাসরি বলেছেন, “এবার আমরা কিউবাকে স্বাধীন করব।”
কী সেই ঘটনা, যার জন্য রাউল কাস্ত্রোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল আমেরিকা?
অভিযোগটি আজকের নয়, প্রায় তিন দশক পুরোনো। ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার মায়ামি-ভিত্তিক ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামক একটি কিউবান-আমেরিকান প্রবাসী সংগঠনের দুটি ছোট বেসামরিক বিমান (সেসনা) ক্যারিবিয়ান সাগরে কিউবা উপকূলের কাছাকাছি উড়ছিল। তখন কিউবার যুদ্ধবিমান থেকে গুলি চালিয়ে বিমান দুটিকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়।
এই হামলায় বিমানে থাকা চারজন আরোহী (তিনজন মার্কিন নাগরিক ও একজন মার্কিন বাসিন্দা) নিহত হন। সেই সময় কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন রাউল কাস্ত্রো। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার এই ষড়যন্ত্রের পেছনে সরাসরি রাউল কাস্ত্রোর নির্দেশ ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের নজিরবিহীন সাঁড়াশি চাপ
আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মূলত তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে:
মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র।
চারজনকে সরাসরি খুন।
দুটি বেসামরিক বিমান ধ্বংসের নির্দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মায়ামিতে এক অনুষ্ঠানে নিহতদের স্মরণ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমেরিকা তার নাগরিকদের কখনোই ভোলে না। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, আমরা আশা করছি তাঁকে একদিন মার্কিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে।”
ট্রাম্পের হুংকার: কানেটিকাটে কোস্টগার্ড একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “হাভানা (কিউবার রাজধানী) থেকে শুরু করে পানামা খাল পর্যন্ত এলাকায় আমরা আইন লঙ্ঘন, অপরাধ এবং বিদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাব। আমরা কিউবাকে মুক্ত করব।” ### কিউবাকে কি গ্রাস করতে চাইছে ওয়াশিংটন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই আইনি পদক্ষেপ আসলে কিউবার বর্তমান কমিউনিস্ট সরকারের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। এর আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষেত্রেও আমেরিকা একই ধরনের কৌশল নিয়েছিল। কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কিউবার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর একটি ভুয়া অজুহাত তৈরি করতেই ওয়াশিংটন এই নাটক সাজিয়েছে।
৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো এই মুহূর্তে কিউবাতেই অবস্থান করছেন। আমেরিকার সঙ্গে কিউবার কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাঁকে মার্কিন হেফাজতে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপের পর ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন হওয়ায় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





