২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলায় কড়া নজর দিল নবান্ন। ১ এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হচ্ছে। তার আগেই অর্থ দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিল, প্রথম চার মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত কোন খাতে কত টাকা খরচ করা যাবে। শুক্রবার প্রকাশিত নবান্নের এই নির্দেশিকায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারীদের বেতন— সব ক্ষেত্রেই খরচের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বেতন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় বরাদ্দ রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘জয় বাংলা’র মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোর জন্য বার্ষিক বাজেটের সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। একইভাবে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন, মজুরি এবং পরিবহণ নিগমের কর্মীদের পেনশন মেটাতেও বাজেটের ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত খরচের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে নবান্ন কড়া শর্ত দিয়েছে যে, প্রতি মাসে প্রকৃত চাহিদার (Actual Requirement) ভিত্তিতেই এই টাকা তোলা যাবে। অর্থাৎ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা কোনোভাবেই খরচ করা চলবে না।
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে কড়াকড়ি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সচল রাখতে হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগীদের ডায়েটের জন্য ৩৩ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক সাধারণ খরচ এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সীমা আরও কম, মাত্র ২৫ শতাংশ। রাজ্যের নিজস্ব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য মাত্র ২০ শতাংশ টাকা খরচের ছাড়পত্র মিলেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের বাজেট শাখার আগাম অনুমতি ছাড়া এক টাকাও খরচ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কোষাগারের ওপর চাপের ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই সুনির্দিষ্ট আর্থিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বছরের শুরুতে সরকারি কাজ যাতে মসৃণভাবে চলে এবং কোনোভাবেই অর্থের অপচয় না হয়, সেটাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।