২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ভোট দিয়ে বেরিয়ে শুধু কালি মাখা আঙুলই দেখালেন না, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ এবং আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভাবনার গভীরতা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন পরমব্রত? ভোট দিয়ে বেরিয়ে সহনাগরিকদের সঙ্গে সেলফি পোস্ট করে পরমব্রত লেখেন, “বাংলা মানে সমালোচনা করার অধিকার, একই সঙ্গে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালি হিসেবে নিজের মৌলিক পরিচয়ের সঙ্গে আপস না করা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রত্যেকের পছন্দ আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভোটদানের পদ্ধতিটি এক। আর সবার নিজস্ব পছন্দকে বেছে নেওয়ার এই সুযোগকেই তিনি ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনীতির ময়দানে পরমব্রতর ‘ডেবিউ’: উল্লেখ্য, ২০২৬-এর নির্বাচনে পরমব্রতকে ঘিরে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। শোনা গিয়েছিল তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন। যদিও প্রার্থী হননি, তবে এবারই প্রথম সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছেন তিনি। গত শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে দেখা যায় তাঁকে। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, এবারের লড়াই বাঙালির আত্মসম্মান ও মর্যাদা রক্ষার লড়াই।
কেন তাঁর বার্তা এত গুরুত্বপূর্ণ?
নারীর নিরাপত্তা: বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে পরমব্রত জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ আজও মহিলাদের জন্য দেশের অন্যতম নিরাপদ জায়গা। অন্য রাজ্য থেকে এসে এ নিয়ে জ্ঞান দেওয়া তিনি বরদাস্ত করবেন না।
বাঙালিয়ানা ও মৌলিকতা: পরমব্রতর পোস্টে বারবার ফিরে এসেছে বাঙালির নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখার কথা।
তৃণমূলের প্রচারক: অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক এবং তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (SIR) অহেতুক হেনস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
নির্বাচনের আবহে যখন টলিপাড়ার অনেক তারকাই পদ্ম-ঘাসফুল দ্বন্দ্বে বিভক্ত, তখন পরমব্রতর এই ‘গণতান্ত্রিক সৌন্দর্যের’ বার্তা আদতে এক গভীর রাজনৈতিক সচেতনতারই পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।





