একটি আসনও কমবে না!’ ডিলিমিটেশন নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে বড় আশ্বাস অমিত শাহর, সংসদে পেশ নয়া ‘নো-লস’ মডেল

লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) নিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর দীর্ঘদিনের আশঙ্কায় এবার জল ঢাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সংসদে ‘ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬’ এবং ‘১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ডিলিমিটেশনের ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমবে না বরং আসন সংখ্যা বাড়বে। সরকারের প্রস্তাবিত এই ‘নো-লস’ (No-Loss) মডেলে কোনো রাজ্যই বর্তমানের তুলনায় কম আসন পাবে না।

অমিত শাহর আশ্বাসের মূল পয়েন্ট:

  • আসন কমবে না একটিও: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানান, “আমি দক্ষিণের ভাই-বোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী মোদী আপনাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেছেন। তামিলনাড়ু হোক বা কেরালা— কোনো রাজ্যেরই একটি আসনও কমবে না।”

  • ৮৫০ আসনের অংক: প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ (তন্মধ্যে ৮১৫টি রাজ্যের ও ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য) করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অনুপাত বজায় রেখে সব রাজ্যের আসন গড়ে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে।

  • দক্ষিণের জন্য পরিসংখ্যান: * তামিলনাড়ু: ৩৯টি আসন বেড়ে হতে পারে ৫৯টি।

    • কর্ণাটক: ২৮টি আসন বেড়ে ৪২টি হওয়ার সম্ভাবনা।

    • অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানা: সম্মিলিত আসন সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

  • প্রতিনিধিত্বের সমতা: শাহ জানান, উত্তর ভারতের জনসংখ্যা বাড়লেও দক্ষিণের রাজ্যগুলো যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের প্রাপ্য অধিকার বা সংসদের ওজন যাতে না কমে, তা নিশ্চিত করবে এই নতুন মডেল।

বিরোধীদের উদ্বেগ ও সরকারের অবস্থান: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, জনসংখ্যা ভিত্তিক পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, “ডিলিমিটেশন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আমরা চাই প্রতিটি নাগরিকের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকুক, আবার কোনো রাজ্য যেন তাদের ভালো কাজের জন্য (জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ) শাস্তি না পায়।”

মহিলা সংরক্ষণের সাথে যোগসূত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্যও এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র।

অমিত শাহর এই ‘নো-লস’ মডেলের আশ্বাসে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর ক্ষোভ প্রশমিত হয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে ২০২৬-এর এই বিল যে ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে, তা নিশ্চিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy