বাংলার মসনদে পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়তেই এবার প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় ‘অপারেশন’ শুরু করার ইঙ্গিত দিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে আদিবাসী মুখ হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর গলায় শোনা গেল কড়া সুর। বিশেষ করে বিগত তৃণমূল জমানায় যে ‘ফেক এসটি সার্টিফিকেট’ বা জাল আদিবাসী শংসাপত্র বিলি করার অভিযোগ উঠেছিল, তা সমূলে উৎপাটন করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
শপথ নিয়েই অ্যাকশন মোডে ক্ষুদিরাম রানিবাঁধের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা বর্তমান মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত কয়েক বছরে রাজ্যে আদিবাসী শংসাপত্র নিয়ে এক বিশাল কারচুপি হয়েছে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল জমানায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে প্রচুর ফেক এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। প্রকৃত আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নিয়ে যারা ভুয়া শংসাপত্র দিয়ে সুবিধা ভোগ করছে, তাদের পুরোপুরি শেষ করে দেব।”
কেন এই কড়া অবস্থান? ক্ষুদিরাম টুডুর অভিযোগ, জঙ্গলমহলসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অ-আদিবাসী বহু মানুষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসটি সার্টিফিকেট জোগাড় করেছেন। এর ফলে সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা— সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছেন প্রকৃত আদিবাসী যুবক-যুবতীরা। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রধান লক্ষ্যই হবে এই শংসাপত্র জালিয়াতি রুখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং প্রতিটি বিতর্কিত সার্টিফিকেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা।
প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য একদা স্কুল শিক্ষক থেকে আজ রাজ্যের মন্ত্রিত্বে আসীন ক্ষুদিরাম টুডু। মাটির মানুষের নাড়ি নক্ষত্র তাঁর চেনা। তাই তাঁর এই সরাসরি হুঁশিয়ারিতে স্বাভাবিকভাবেই নবান্নের অলিন্দে এবং জেলা প্রশাসনগুলিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই শংসাপত্র জট ছাড়ানোর। এবার খোদ আদিবাসী দরদী মন্ত্রী এই কাজে হাত দেওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন সাধারণ মানুষ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু সরকার যে দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চাইছে, ক্ষুদিরাম টুডুর এই মন্তব্য তারই আগাম বার্তা। এবার দেখার, জাল শংসাপত্র বাতিলের এই প্রক্রিয়া কত দ্রুত শুরু হয়।





