এক লাফে ৮৫০ আসন! কেন লোকসভায় বিপুল সদস্য বাড়ানোর পথে কেন্দ্র? সংসদে বড় রহস্য ফাঁস করলেন অমিত শাহ

সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মনে যে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল, তা সপাটে উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৬ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, আসন সংখ্যা বাড়ানোর ফলে কোনো রাজ্যই গুরুত্ব হারাবে না, বরং প্রত্যেকেই লাভবান হবে।

৮৫০ আসনের নেপথ্যে যুক্তি কী? অমিত শাহ জানিয়েছেন, সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি পেতে চলেছে। তাঁর দাবি, ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে এই পুনর্বিন্যাস করা হবে, যাতে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যা অনুযায়ী সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

দক্ষিণের রাজ্যগুলোর জন্য শাহের ‘রিপোর্ট কার্ড’: বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো লোকসভায় আসন হারাবে। এর জবাবে শাহ পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান:

  • তামিলনাড়ু: আসন বাড়বে আরও ২০টি।

  • অন্ধ্রপ্রদেশ: আরও ১৩টি আসন যোগ হবে।

  • কেরল: আসন বাড়বে ১০টি।

  • তেলেঙ্গানা: অতিরিক্ত ৯টি আসন পাবে।

  • মহারাষ্ট্র: উত্তরপ্রদেশের পরেই থাকা এই রাজ্য আরও ২৪টি আসন পাবে।

সংসদে কি পাস হবে এই বিল? মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সংবিধান সংশোধনী হিসেবে পাস করাতে গেলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এখানেই কপালে ভাঁজ শাসক শিবিরের।

  • লোকসভা: ৩৬২টি ভোট প্রয়োজন, এনডিএ-র হাতে আছে ২৯৩। ঘাটতি ৬৯টি আসনের।

  • রাজ্যসভা: ১৬৩টি ভোট প্রয়োজন, এনডিএ-র আছে ১৪২। ঘাটতি ২১টি আসনের।

অর্থাৎ, বিরোধী জোটের সমর্থন ছাড়া এই বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সরকারের পক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বিরোধীদের পাল্টা দাবি: বিরোধীরা সাফ জানিয়েছে, তাঁরা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে হলেও একে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার বিরোধী। তাঁদের মতে, এটি ২০২৯-এর ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার একটি কৌশল।

এখন দেখার, অমিত শাহের দেওয়া এই ‘লাভের হিসেব’ বিরোধীদের মন গলাতে পারে কি না, নাকি ৮৫০ আসনের লক্ষ্যপূরণ ঘিরে সংসদ অচল হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy