এক বছর আগে আজকের দিনেই কেঁপেছিল পাকিস্তান! ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বর্ষপূর্তিতে রাজনাথের গলায় কেন হুঙ্কার?

ঠিক এক বছর আগের কথা। পহেলগাম হামলার ক্ষত তখন টাটকা। সেই চরম আঘাতের বদলা নিতে পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের তিন বাহিনী যে বিধ্বংসী প্রত্যাঘাত হেনেছিল, তার নাম ছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’। আজ, ৭ মে সেই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রথম বর্ষপূর্তি। এই বিশেষ দিনে ভারতীয় জওয়ানদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে ফের একবার শত্রুপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর সাফ কথা, আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে এই অপারেশন।

পহেলগামের বদলা: ৯টি ঘাঁটি ও ১০০ জঙ্গি খতম

গত বছর পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। সেই রাতেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর নির্দেশে শুরু হয় ‘অপারেশন সিন্দুর’। ভারতীয় বায়ুসেনা ও স্থলবাহিনীর অভূতপূর্ব সমন্বয়ে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) অন্তত ৯টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় খতম হয়েছিল অন্তত ১০০ জন লস্কর ও জইশ জঙ্গি। রাজনাথ সিং আজ বলেন, “অপারেশন সিন্দুর ছিল জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি ভারতের অটল সংকল্পের প্রতীক।”

তিন বাহিনীর ‘ম্যাজিক’ সমন্বয়

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতে, এই অপারেশনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল জল, স্থল ও আকাশ— তিন বাহিনীর নিখুঁত মেলবন্ধন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বার্তায় জানান যে, যেভাবে কোনো রকম নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই শত্রুশিবিরে চরম আঘাত হানা হয়েছিল, তা বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। বিশেষ করে আকাশপথে নির্ভুল নিশানায় জঙ্গি ডেরা উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের আত্মনির্ভর সামরিক শক্তির পরিচয় দেয়।

জয়পুর থেকে নতুন রণকৌশল

অপারেশন সিন্দুর-এর বর্ষপূর্তিতে আজ জয়পুরে আয়োজিত ‘যুগ্ম কমান্ডার কনফারেন্স’-এ যোগ দিচ্ছেন রাজনাথ সিং। সেখান থেকেই ভারতের আগামী দিনের রণকৌশল এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমান সময়ের সাইবার ক্রাইম, মহাকাশ গবেষণা এবং তথ্যযুদ্ধ বা ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’-এর মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ভারতীয় সেনাকে আরও অত্যাধুনিক করে তোলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে এই সম্মেলনে।

“সবসময় তৈরি ভারত”

রাজনাথ সিং স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারত শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও প্রয়োজনে যে কোনো সময় নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না। তাঁর কথায়, “আমাদের বাহিনী যখনই প্রয়োজন হয়, তখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম এবং তৈরি থাকে। অপারেশন সিন্দুর তারই বড় প্রমাণ।”

এক বছর আগের সেই রোমহর্ষক অভিযানের ইনসাইড স্টোরি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার কি মনে হয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন প্রত্যাঘাত কি নিয়মিত প্রয়োজন? কমেন্টে আমাদের জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy