আগামীকাল বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। আর এই ভোটের জেরেই কার্যত অচল হয়ে পড়ল খোদ মহানগরীর পরিবহণ ব্যবস্থা। ভোটকর্মীদের যাতায়াত এবং নিরাপত্তারক্ষীদের যাতায়াতের প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন বিপুল পরিমাণ বাস ও ছোট গাড়ি তুলে নেওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুর্ভোগে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। সরকারি বা বেসরকারি— কোনো বাসেরই দেখা মিলছে না। যাও বা আসছে, তাতে তিল ধারণের জায়গা নেই। এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী অরিজিৎ সেনের কথায়, “আগে যে বাস ১০ মিনিটে আসত, এখন ৪০ মিনিটেও তার দেখা নেই। এলেও ওঠার উপায় নেই।”
শহরের ভোগান্তির ৫টি প্রধান কারণ:
কমিশনের রিকুইজিশন: বড় বাস, মিনিবাস থেকে শুরু করে প্রচুর প্রাইভেট গাড়ি নির্বাচন কমিশনের কাজে তুলে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বাসের সঙ্কট: ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকায় প্রায় ৪০০টি সরকারি বাস গ্যারেজবন্দি হয়ে রয়েছে।
অ্যাপ-ক্যাব বিভ্রাট: কমিশনের তলবের ভয়ে চালকরা গাড়ি নামাচ্ছেন না। যাও নামছে, তার ভাড়া আকাশছোঁয়া।
অফিসযাত্রীদের বিপদ: দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অফিস পৌঁছাতে কালঘাম ছুটছে সাধারণ মানুষের।
অনলাইন ক্লাস: যানজট ও গাড়ির অভাবের কারণে অনেক স্কুল অনলাইনে পঠনপাঠন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ক্যাবেও নেই স্বস্তি
যাঁরা বাস না পেয়ে অ্যাপ-ক্যাব বুক করছেন, তাঁদের অবস্থাও তথৈবচ। সেক্টর ফাইভের কর্মী বিপাশা সেন জানান, “ক্যাব বুক করলে বারবার রাইড বাতিল করছেন চালকরা। কোথাও ভাড়ার অঙ্ক দেখাচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি।”
বাইক চলাচল নিয়ে জট
ভোটের মুখে বাইক চলাচল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালেও কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে বাইক ব্যবহারে বাধা নেই। তবে পুলিশের কড়াকড়ি এবং যানজটের কারণে দু-চাকার গাড়ি নিয়েও বেরোতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আগামীকাল অর্থাৎ ভোটের দিনও এই ভোগান্তি বজায় থাকবে। আপাতত ট্রেনের ওপর ভরসা করা ছাড়া শহরবাসীর হাতে বিশেষ কোনো বিকল্প নেই।





