সুস্থ থাকতে এক গ্লাস দুধের ওপর ভরসা রাখাই কাল হলো। দুধ খাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল প্রবল বমি আর পেটে ব্যথা। সাধারণ পেটের সমস্যা ভেবে প্রথমে এড়িয়ে গেলেও, পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দফায় দফায় বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যখন দেখা যায়, আক্রান্ত প্রত্যেকেরই কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে একাধিক ব্যক্তির। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভেজাল দুধের কারবারের জেরে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্তদের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে কিডনির কর্মক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমতে দেখা গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুধে মেশানো কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক বা ইউরিয়ার প্রভাবেই এই ‘মাল্টি-অর্গান ফেলিওর’ হতে পারে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি আক্রান্তদের বাড়ি থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, সিন্থেটিক দুধ তৈরিতে এমন কোনো মারাত্মক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে যা সরাসরি মানবদেহের রেচনতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ডেইরি ফার্ম ও স্থানীয় দুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা লাভের আশায় সাধারণ মানুষের জীবনে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। ২০২৬-এর এই সময়ে দাঁড়িয়েও খাদ্যে ভেজালের জেরে এমন গণমৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট এলে বিষক্রিয়ার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।