বাংলার মসনদ দখলে রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে যা ‘লাইফলাইন’, সেই কেন্দ্রগুলোতেই এবার মরণকামড় দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের শিল্পাঞ্চল ও শহরতলি—এই তিন স্তরের রণকৌশল যদি বিজেপি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তবে তৃণমূলের জন্য পরিস্থিতি ‘গেম ওভার’-এর মতো হয়ে উঠতে পারে।
উত্তরবঙ্গের একাধিপত্য ধরে রাখা: বিগত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গ কার্যত বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা বলয় থেকে শুরু করে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক—বিজেপির লক্ষ্য এখানে তৃণমূলকে খাতা খুলতে না দেওয়া। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার বা বালুরঘাটের মতো আসনগুলোতে জয় সুনিশ্চিত করতে পারলে উত্তরবঙ্গ থেকেই তৃণমূলের পতনের শুরু হতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোট: একসময় যা বামেদের এবং পরে তৃণমূলের গড় ছিল, সেই জঙ্গলমহল (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম) এখন বিজেপির নিশানায়। কুড়মি আন্দোলন এবং আদিবাসী ক্ষোভকে হাতিয়ার করে বিজেপি এখানে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে মরিয়া। এখানকার হার-জিতের ওপর নির্ভর করছে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের সামগ্রিক ফল।
শহরতলি ও মতুয়া ফ্যাক্টর: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহরতলি এলাকাগুলোতে মতুয়া ভোট এবং সিএএ (CAA) ইস্যু বিজেপির সবথেকে বড় হাতিয়ার। বনগাঁ থেকে রানাঘাট—এই বেল্টে যদি বিজেপি থাবা বসাতে পারে, তবে নবান্নের অন্দরে দুশ্চিন্তা বাড়বে। বিজেপির মাস্টারপ্ল্যান হলো, গ্রামীণ ও শহরতলি ভোটের মেরুকরণ ঘটিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়া। যদি এই প্রধান কেন্দ্রগুলোতে তৃণমূল পিছিয়ে পড়ে, তবে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতায় টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।





