এআই কি আপনার চাকরি কেড়ে নেবে? আশঙ্কার মাঝে অভয় দিলেন রঘুরাম রাজন!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) কি মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেবে? বিশ্বজুড়ে যখন এই আতঙ্ক তুঙ্গে, তখন এক ইতিবাচক বার্তা দিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তাঁর মতে, প্রযুক্তি মানুষকে বেকার করার জন্য নয়, বরং কাজের নতুন সুযোগ তৈরি করতেই আসে। ইতিহাস সাক্ষী, অতীতেও শিল্প বিপ্লব বা কম্পিউটারের আগমনে একই রকম ভীতি তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মানুষের কাজের পরিধিই বাড়িয়েছিল।

২০২৮-এর ডেডলাইন ও রাজনের যুক্তি সম্প্রতি একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৮ সালের মধ্যে এআই-এর প্রভাবে হোয়াইট কলার বা অফিস কর্মীদের কাজের বড় অংশ বিলুপ্ত হতে পারে। এই প্রসঙ্গে রাজন বলেন, প্রযুক্তি রাতারাতি সব বদলে দেয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি টেলিফোন অপারেটরদের কথা বলেন—১৯২০ সালে অটোমেশন শুরু হলেও অপারেটরদের প্রয়োজনীয়তা ফুরোতে কয়েক দশক সময় লেগেছিল। রাজনের বিশ্বাস, এআই-এর ক্ষেত্রেও ছবিটা আলাদা হবে না। কাজের ধরণ বদলাবে, কিন্তু কাজ হারানো অনিবার্য নয়।

দাসত্ব নয়, চাই প্রযুক্তি-শিক্ষা রঘুরাম রাজনের প্রধান পরামর্শ হলো—মানুষকে প্রযুক্তির দাস না হয়ে তার নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখতে হবে। তিনি মনে করেন, যারা নিজেদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে বা ‘রিস্কিলিং’ (Reskilling) করবে, তারাই এই লড়াইয়ে টিকে থাকবে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ হারানোর যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা তখনই সত্যি হবে যদি মানুষ প্রযুক্তির থেকে দূরে সরে থাকে। বরং কোডিং বা সাধারণ কাজের বদলে সৃজনশীল এবং জটিল কাজগুলোতে মানুষের দক্ষতা আরও বাড়বে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy