শনিবার বিকেলে এক ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (NSCBI Airport)। টেক-অফ করার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই শিলংগামী ইন্ডিগো (IndiGo) ফ্লাইটে ‘বোমা’ থাকার হুমকি মেলায় হুলুস্থুলু পড়ে যায় দমদম বিমানবন্দরে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিকে রানওয়ে থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয় আইসোলেশন বে-তে।
কীভাবে শুরু হলো আতঙ্ক? বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ইন্ডিগো-র 6E 7287 উড়ানটি যখন যাত্রীদের নিয়ে শিলংয়ের উদ্দেশে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই একটি উড়ো ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে দাবি করা হয় যে বিমানে শক্তিশালী বিস্ফোরক লুকানো আছে। মুহূর্তের মধ্যে সতর্ক করা হয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)-কে।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি ও তল্লাশি: বিমানের চাকা ঘোরার আগেই পাইলটকে উড়ান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরই শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি:
-
বিমানের ভেতরে থাকা সমস্ত যাত্রীকে তড়িঘড়ি নামিয়ে আনা হয়।
-
বম্ব স্কোয়াড এবং স্নিফার ডগ (ডগ স্কোয়াড) নিয়ে এসে বিমানের প্রতিটি কোণা, ল্যাগেজ এবং কেবিন চেক করা হচ্ছে।
-
বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও দমকলের ইঞ্জিন।
যাত্রীদের অবস্থা: শিলংগামী এই বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমান থেকে নামার সময় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বর্তমানে সকল যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের মালপত্র পুনরায় স্ক্যান করা হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে কলকাতা বিমানবন্দরের অন্যান্য উড়ানের সূচিও কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে।
ভুয়া আতঙ্ক না কি বড় ষড়যন্ত্র? প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে এটি কোনো ‘হক্স কল’ বা ভুয়া হুমকি হতে পারে, যা মাঝেমধ্যেই আতঙ্ক সৃষ্টি করতে করা হয়। তবে ২০২৬-এর এই স্পর্শকাতর সময়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। অভিযুক্তের অবস্থান ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ।