এক যুগ পর ফের উচ্ছে চাষে চরম বিপর্যয়। ২০১৩ সালের পর ২০২৬-এ এসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি বাংলার কৃষকরা। বাজারে উচ্ছের দাম আকাশছোঁয়া—পাইকারি দরে বিকোচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। অথচ গত বছর এই সময়ে উচ্ছে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৪ টাকা কেজিতে, যার জেরে রাস্তায় উচ্ছে ফেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন চাষিরা। দাম বাড়লেও পর্যাপ্ত ফলন না হওয়ায় মাথায় হাত কৃষকদের।
গবেষকদের মতে, সমস্যাটি মূলত আবহাওয়া জনিত। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উচ্ছে গাছের অঙ্কুরোদগমের জন্য ১৮° সেলসিয়াস এবং বৃদ্ধির জন্য ২৪-২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। কিন্তু এবছর তাপমাত্রা ১৫° সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রগতি, বিপাশা-২ ও মেঘনার মতো জনপ্রিয় প্রজাতিগুলোতে ফলন ব্যাপক হারে কমেছে। সাধারণ সময়ে যেখানে প্রতি হাটে তিন ঝুড়ি উচ্ছে পৌঁছাত, সেখানে এখন মিলছে মাত্র এক ঝুড়ি।
উচ্চ দামের সুফল পেলেও উৎপাদন ঘাটতি কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ফেলছে। প্রতিকূল এই আবহাওয়ায় চাষিদের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে চাষের কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে একদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া আর অন্যদিকে উৎপাদনের এই ঘাটতি কৃষকদের আয়ের স্থিতিশীলতাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।