কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তীব্র আলোড়ন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের সংকট এবং ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
কী বললেন সজল ঘোষ? ফিরহাদ হাকিম নিজের ইস্তফার কারণ হিসেবে ‘নিধিরাম সর্দার’ হওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করলেও, সজল ঘোষের দাবি, এর পেছনে রয়েছে তৃণমূলের চূড়ান্ত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা। সজল বলেন, “তৃণমূলের লোকেরা যে পদত্যাগ করতে পারেন, তা দেখে ভালো লাগছে। আসলে ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।”
ফিরহাদকে সজলের চ্যালেঞ্জ: সজল ঘোষ এদিন ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “উনি অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। আমি তাঁকে বলব, ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলুন যে তাঁকে কালীঘাট থেকে পদ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।” সজল আরও প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি ৫৮-র দলে না ১৮-র দলে? আপনি বলুন, আপনাকে কি পদ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল? দুই দিন সময় লাগল কেন পদত্যাগ করতে? আসলে এসবই নাটক।”
প্রশাসনিক অচলবস্থার ইঙ্গিত: মেয়র পদত্যাগের পর সজল ঘোষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “তিনি কাজ করতে পারছেন না বলছেন কেন? তাঁর এমআইসি (MIC), বোরো চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করছেন, কাউন্সিলররা জেলে যাচ্ছেন—এসব কারণেই তিনি দমবন্ধ অবস্থার কথা বলছেন। একদিকে মেয়র বলছেন কাজ করতে পারছেন না, অন্যদিকে চেয়ারম্যান বলছেন ১৯ তারিখ হাউস ডাকবেন। এদের নিজেদের মধ্যেই কোনো বোঝাপড়া নেই।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পাশাপাশি বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর সরে দাঁড়ানো এবং একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভায় তৃণমূলের আধিপত্য এখন প্রবল সংকটের মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সজল ঘোষের এই মন্তব্য শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।





