ইরানের যম! কে এই এয়াল জামির? যার মারণ-ছকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তেহরানের প্রতিরক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়ার নেপথ্যে এখন একটিই নাম— লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ-এর (IDF) প্রধান হিসেবে ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি এবং ছায়াযুদ্ধের কৌশল বদলে দিয়েছেন। জামিরকে কেবল একজন সেনাপ্রধান নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ‘মূল স্থপতি’ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

কে এই এয়াল জামির? ১৯৬৬ সালে ইজরায়েলের এইলাত শহরে জন্ম জামিরের। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীতে তাঁর দীর্ঘ ৩৮ বছরের কেরিয়ার অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি মূলত একজন ‘ট্যাঙ্ক অফিসার’। আশির দশকে আর্মড কোরে যোগ দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। এরপর কমান্ডো ইউনিট থেকে শুরু করে সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান— সব পদেই তাঁর সাফল্যের ছাপ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, জামির কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই দক্ষ নন, তিনি আমেরিকার হোয়ার্টন স্কুল থেকে ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেছেন এবং ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট থেকে ইরানের প্রভাব রুখতে বিশেষ কৌশলগত গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন।

ইরান ও হিজবুল্লার ত্রাস: জামির দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ইজরায়েল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে সারপ্রাইজ অ্যাটাক চালায়। গত জুন মাসে ১২ দিনের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি। জামিরের নেতৃত্বে ইজরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের আকাশসীমায় কার্যত আধিপত্য বিস্তার করেছে। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, তাঁর নির্দেশেই প্রায় ৬,০০০ নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লা এবং হামাস নেতৃত্বের ওপর একের পর এক সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও জামিরের ঠান্ডা মাথার মস্তিষ্কের ফসল।

নেতানিয়াহুর ‘ডান হাত’: এক সময় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব হিসেবে কাজ করা জামির বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা। জামির বিশ্বাস করেন, ইরানকে কোণঠাসা করতে হলে কেবল তার প্রক্সি বা ভাড়াটে বাহিনী (হিজবুল্লা-হামাস) মারলে চলবে না, সরাসরি ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর এই ‘ডিরেক্ট কনফ্রন্টেশন’ নীতিই এখন ইজরায়েলের প্রধান প্রতিরক্ষা কৌশল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy