গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর গত ৯ মার্চ তড়িঘড়ি করে খামেনেইর মেজ ছেলে মোজতবা খামেনেইকে দেশের পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও জনসমক্ষে আসেননি ৫৬ বছর বয়সি এই রহস্যময় নেতা। আর এই ‘রহস্যময় অন্তর্ধান’ ঘিরেই এখন তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এবং ইজরায়েলি সংস্থা মোসাদ এখন অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে—আদৌ কি জীবিত আছেন মোজতবা? নাকি তিনি নিছকই এক ‘ছায়া শাসক’?
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় খামেনেইর পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন। জল্পনা ছড়িয়েছে যে, ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর জখম হয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, মোজতবা সম্ভবত মারাত্মকভাবে আহত এবং তাঁর চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছে। এমনকি তাঁকে চিকিৎসার জন্য গোপনে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। গত ১২ মার্চ এবং ২০ মার্চ তাঁর নামে দুটি বিবৃতি সরকারি সংবাদমাধ্যমে পাঠ করা হলেও, কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর উৎসবেও তাঁকে দেখা যায়নি, যা ইরানি ইতিহাসে বিরল।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মোজতবা বর্তমানে ক্ষমতাহীন এক পুতুল শাসক মাত্র। পর্দার আড়ালে আসল ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা IRGC। মোজতবার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং কেবল লিখিত বিবৃতির ওপর নির্ভরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় কোনো ফাটল ধরেছে। একদিকে ইজরায়েলের ধারাবাহিক হামলা, অন্যদিকে শীর্ষ নেতাদের একের পর এক মৃত্যু—সব মিলিয়ে এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও কড়া নজর রাখছে তেহরানের পরিস্থিতির ওপর। প্রশ্ন উঠছে, মোজতবা কি আদৌ দেশের হাল ধরতে পারবেন, নাকি ইরানের ক্ষমতা চলে যাবে সেনার হাতে? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।