মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কায় যখন ইউরোপ থেকে আমেরিকা— সবাই প্রমাদ গুনছে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহে কোনো টান পড়বে না।
বিশ্বজুড়ে কেন এই হাহাকার? ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহনের পথ বা ‘হরমজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে:
অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর উপক্রম।
বহু দেশ তাদের তেলের মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ভারতের জন্য রাশিয়ার বিশেষ ‘ডিল’: এই সংকটের মুহূর্তে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে বিশেষ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মস্কো জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধু হিসেবে ভারতকে তারা ডিসকাউন্ট রেটে বা বিশেষ ছাড়ে তেল সরবরাহ জারি রাখবে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পথ আরও মসৃণ হতে চলেছে।
ভারতের অবস্থান ও সুবিধা: ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় ভারত দুটি সুবিধা পাচ্ছে: ১. সস্তা জ্বালানি: বাজারের চড়া দামের বদলে কম দামে রুশ তেল পাওয়ায় দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ২. বিকল্প পথ: ইরান সংকটের প্রভাব ভারতের ওপর সরাসরি পড়ার ঝুঁকি অনেকটা কমবে।
কূটনৈতিক জয়: বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্য রক্ষার কূটনীতিই এই সাফল্যের চাবিকাঠি। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক, অন্যদিকে রাশিয়ার থেকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা— এই কৌশলে ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে সুবিধাজনক অবস্থানে। ২০২৬-এর এই কঠিন সময়ে রাশিয়ার এই ‘সুখবর’ ভারতের অর্থনীতির জন্য বড়সড় বুস্টার ডোজ হতে চলেছে।





