টলিপাড়ার প্রযোজক-পরিবেশকদের সংগঠন ‘ইম্পা’ (EIMPA)-তে নজিরবিহীন সংঘাত। সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে একপ্রকার বলপূর্বক সরিয়ে ইম্পার মসনদে বসলেন অজন্তা সিনেমার মালিক রতন সাহা। যদিও পিয়া সেনগুপ্ত ও তাঁর আইনজীবীর দাবি, এই অপসারণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনৈতিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত টলিপাড়া।
আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ইম্পা সভাপতি হিসেবে পিয়া সেনগুপ্তের কার্যকালের মেয়াদ রয়েছে। কিন্তু তার অনেক আগেই ‘ধ্বনি ভোটে’র মাধ্যমে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রতন সাহার পুত্র শতদীপ সাহা এবং একদল প্রযোজক-পরিবেশক ঘোষণা করেছেন, যতদিন না নতুন নির্বাচন হচ্ছে, ততদিন রতন সাহাই সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন। ২৫ মে সোমবার রতন সাহা ইম্পা অফিসে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এই ঘটনার পর কলকাতার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, “২২ মে ইম্পা অফিসে আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে আমি আতঙ্কিত। সেদিন আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা করা হয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক এনে ধ্বনি ভোটের আয়োজন করা হয়েছিল, যা সংগঠনের নিয়মের পরিপন্থী। পিয়া সেনগুপ্তকে ‘স্বজনপোষণ’-এর অভিযোগে বিদ্ধ করা হলেও, তিনি তা সরাসরি খারিজ করেছেন। পালটা প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ নিয়ে কথা বলা শতদীপ সাহা নিজে কী করছেন? তিনিও তো রতন সাহার পুত্র।”
ইম্পার আইনজীবী চাঙ্কি জয়সওয়াল জানিয়েছেন, হাই কোর্টের বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে পিয়া সেনগুপ্ত বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আগে তাঁকে সরানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি একে ‘নির্বাচন’ নয়, বরং ‘বলপূর্বক ক্ষমতা দখল’ বলে অভিহিত করেছেন। পিয়া সেনগুপ্তের দাবি, যারা তাঁকে সরিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে অফিস শুদ্ধি করেছেন, তাঁদের এই অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মোকাবিলা করা হবে আইনি পথেই।
ইম্পার এই জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া নিতে যোগাযোগ করা হয়েছিল সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তবে তিনি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায়িত্ব এখনও না পাওয়ায় এই বিষয়ে তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করবেন না। আপাতত পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, কিছুদিনের জন্য তিনি অফিসে যাবেন না, তবে সভাপতির মর্যাদা নিয়ে সংগঠনের কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি অনড়। টলিপাড়ার অন্দরমহলের এই লড়াই এখন কোন পথে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





