গত এক সপ্তাহ ধরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিপুল সংখ্যক বিমান বাতিল এবং বিলম্বের জেরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির (Urgent Hearing) আবেদন জানানো হলেও, তা খারিজ করল শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাই এই মুহূর্তে আদালতের তরফে জরুরি শুনানির প্রয়োজন নেই।
‘কেন্দ্র নজর রাখছে, জরুরি পরিস্থিতি নেই’
আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র শীর্ষ আদালতে এই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শোনার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের ৯৫টি বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তাঁর বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি যে লক্ষ লক্ষ মানুষ আটকে পড়েছেন। হয়তো কিছু লোকের জরুরি কাজ আছে এবং তাঁরা যেতে পারছেন না। কিন্তু ভারত সরকার বিষয়টি নজরে রেখেছে। মনে হচ্ছে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত তো কোনও এয়ারলাইন্স চালাতে পারে না। আমরা এই মুহূর্তে কোনও জরুরি পরিস্থিতি দেখছি না।”
একই দিনে বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চের সামনে একই বিষয়ে আরেকটি আবেদন উল্লেখ করা হয়। আবেদনটি এস লক্ষ্মীনারায়ণন নামে এক ব্যক্তি দায়ের করেন, যিনি ভাড়ার স্বচ্ছতা, জরুরি বিমান পরিষেবার ধারাবাহিকতা এবং ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি ও ফ্লাইট বাতিলের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অসামরিক বিমান চলাচল খাতে শীর্ষ আদালতের নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইন্ডিগোর ফ্লাইট সংকট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সক্রিয়ভাবেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার অপেক্ষায় থাকতে বলেছে আদালত।