দেশের বৃহত্তম আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) তাদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম অফিস’ (WFO) পলিসি নিয়ে এবার চরম কঠোর অবস্থান নিল। বেতন বৃদ্ধির মরসুম শুরু হতেই কোম্পানির পক্ষ থেকে এমন এক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা আইটি কর্মীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ত্রৈমাসিকে যারা অফিসে এসে কাজ করার নির্দিষ্ট নিয়ম মানেননি, তাঁদের ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি আটকে দিয়েছে সংস্থা।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক কর্মীর ক্ষেত্রে অপারেশন লেভেল থেকে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হলেও কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ তাতে অনুমোদন দেয়নি। বর্তমানে সেই ফাইলগুলি ‘ফ্রিজ’ করে রাখা হয়েছে। কর্মীদের দাবি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের যে অফিশিয়াল মেইল আসার কথা ছিল, তা অনেকেই পাননি। সংস্থার ইন্টারনাল পোর্টাল ‘আল্টিম্যাটিক্স’-এও এই সংক্রান্ত কোনো আপডেট দেওয়া হয়নি। মূলত যারা সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে আসার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যাটেনডেন্সের সঙ্গে যুক্ত ইনক্রিমেন্ট: টিসিএস গত কয়েক বছর ধরেই কর্মীদের পাকাপাকিভাবে অফিসে ফেরাতে বদ্ধপরিকর। যখন অধিকাংশ আইটি সংস্থা ‘হাইব্রিড মডেল’ (সপ্তাহে ২-৩ দিন অফিস) অনুসরণ করছে, তখন টিসিএস সপ্তাহে ৫ দিন অফিস আসাকেই দস্তুর করে ফেলেছে। এর আগে সংস্থাটি ভ্যারিয়েবল পে (Variable Pay)-এর সঙ্গে অফিসে উপস্থিতিকে লিঙ্ক করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ত্রৈমাসিক ভ্যারিয়েবল পে-র ১০০ শতাংশ টাকা পেতে হলে কর্মীকে অন্তত ৮৫ শতাংশ সময় অফিসে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। বছরে অন্তত ২২৫ দিন অফিসে থেকে কাজ করা বা ‘বিল্ড বিজনেস ডেস’ থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টাটা গোষ্ঠীর এই আইটি জায়ান্টের এমন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, তারা আর রিমোট ওয়ার্ক বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিতে রাজি নয়। এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার কর্মীর ক্যারিয়ারের অগ্রগতি এখন প্রশ্নের মুখে। যদিও এই বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।