ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। আইটেম নম্বর ৩৭—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা এসআইআর (SIR) মামলার শুনানি শুরু হতেই দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। দেশের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনো রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নিজেই আইনজীবীদের সারিতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করলেন নিজের মামলার পক্ষে।
বেলা ১টার কিছু পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে শুনানি শুরু হয়। প্রথমে পেছনের সারিতে থাকলেও, মামলা শুরু হতেই সামনের সারিতে চলে আসেন মমতা। তাঁর সওয়ালের মূল বিষয় ছিল নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ভোটারদের নামের বানান এবং পদবি সংক্রান্ত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি।
মমতা যুক্তি দেন, বিয়ের পর বাঙালি মেয়েদের পদবি পরিবর্তন একটি সামাজিক রীতি। অথচ এই কারণে হাজার হাজার মহিলাকে শুনানিতে তলব করে হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি নামের বানানে সামান্য হেরফেরের জন্যও সাধারণ মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি খোদ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামের বানানের প্রসঙ্গও তোলেন। এর জবাবে বিচারপতিরাও সহমত পোষণ করেন। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলে টেগর?” বিচারপতিরা স্বীকার করে নেন যে, বাংলায় উচ্চারণ ও বানানের সূক্ষ্ম পার্থক্য কমিশন বুঝছে না।
মমতার এই যুক্তিতে কার্যত সিলমোহর দিয়ে প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন, রাজ্য থেকে ভালো বাংলা জানা বিশেষজ্ঞদের একটি টিম ডেপুটেশনে নিতে, যারা এই বানান ভুলের বিষয়টি দেখবে। একইসঙ্গে আদালত কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যে ইস্যু নিয়ে মমতা রাস্তায় নেমেছিলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও সেই একই বিষয়ে জয় পেলেন তিনি।