২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সক্রিয়তা তুঙ্গে। তৃণমূল বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যের আরও দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে তলব করল ইডি। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই জোড়া তলব শাসক শিবিরে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে।
তদন্তের মূল অভিমুখ: ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতি এবং পুরসভা নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বেশ কিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে। দেবাশিস কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত নথির সঙ্গে রাজ্যের এই দুই মন্ত্রীর বয়ান মিলিয়ে দেখতে চান তদন্তকারীরা।
হাজিরার নির্দেশ: নির্দিষ্ট দিনে সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ হাজির হতে বলা হয়েছে।
পুরসভা যোগ: সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পুরসভা নিয়োগে দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এই দুই মন্ত্রীর দপ্তরের কোনো প্রভাব এতে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই ইডি-র মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক উত্তেজনা: ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই তৎপরতাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দেগে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, নির্বাচনী ময়দানে এঁটে উঠতে না পেরে বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, “আইন তার নিজের পথেই চলবে। যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের নির্বাচনের দোহাই দিয়ে ছাড় দেওয়া যায় না।”
দেবাশিস কুমারের রেশ: এর আগে দেবাশিস কুমারকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। তাঁর বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ডিজিটাল নথি উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই এবার তদন্তের জাল আরও গভীরে ছড়াচ্ছে ইডি।
নির্বাচনের মুখে এই আইনি লড়াই যে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই দুই মন্ত্রী ইডি-র তলবে হাজিরা দেন নাকি আইনি রক্ষাকবচের আশ্রয় নেন।





