বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ প্রায় শেষ। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হতে চলেছে এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা। এই মাহেন্দ্রক্ষণে রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় প্রশ্ন— ডক্টর ইউনূস কি বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন? দেশের অস্থির সময়ে হাল ধরা এই নোবেলজয়ীকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অলঙ্কারিক পদে দেখার দাবি তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ। তবে এই জল্পনা নিয়ে খোদ ডক্টর ইউনূস এবং সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য ভিন্ন।
ডক্টর ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি এই ধরণের সমস্ত জল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডক্টর ইউনূস কখনোই ক্ষমতার রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করে আবার নিজের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক কাজে ফিরে যেতে চান। ডক্টর ইউনূস নিজেও একাধিক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অংশ হতে বা ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে থাকতে ইচ্ছুক নন।
বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও ডক্টর ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের কথা জানানো হয়নি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ডক্টর ইউনূসকে তাঁরা একজন দক্ষ সংস্কারক হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, কিন্তু পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। যদিও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইউনূসের নাম লোকমুখে ঘুরছে, তবুও আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা এবং ডক্টর ইউনূসের নিজের অনাগ্রহের কারণে এই সম্ভাবনা ক্ষীণ। আপাতত অন্তর্বর্তী সরকারের সফল বিদায় এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণই ডক্টর ইউনূসের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার।