রাজনীতির আঙিনায় তাঁরা যুযুধান প্রতিপক্ষ, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্কটা মা ও ছেলের। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার লড়াইয়ের ময়দান ছাপিয়ে চর্চায় উঠে এল এক বিরল সৌজন্যের ছবি। বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বাজি তাঁরই স্নেহধন্য রঞ্জন শীলশর্মা। ভোটের লড়াই শুরুর আগে বুধবার সকালে ‘মা’ শিখার আশীর্বাদ নিয়েই প্রচারের ময়দানে নামলেন ‘ছেলে’ রঞ্জন।
বুধবার সকালে সরাসরি শিখা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে যান রঞ্জন শীলশর্মা। সেখানে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিনি। উল্লেখ্য, শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছেই বড় হয়েছেন রঞ্জন, তাঁকে তিনি মা বলেই ডাকেন। দীর্ঘক্ষণ দু’জনের মধ্যে কুশল বিনিময় এবং ঘরোয়া কথাবার্তাও হয়। রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই পারিবারিক মেলামেশা দেখে হকচকিয়ে যান অনেকেই।
সৌজন্যের আড়ালে রাজনৈতিক লক্ষ্য
বাড়ি থেকে বেরিয়েই অবশ্য রঞ্জনের গলায় শোনা গেল রাজনীতির চেনা সুর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন:
“মায়ের আশীর্বাদ নিলাম, এটা আমার সংস্কার। কিন্তু লড়াইটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের। গত কয়েক বছরে মা (শিখা চট্টোপাধ্যায়) এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি। উনি অসুস্থ, ওঁর বিশ্রাম প্রয়োজন। ভোটের ফলে দেখা যাবে জয়ের মালা ছেলেই পরছে।”
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির লড়াই: একনজরে
বিজেপি শিবির: শিখা চট্টোপাধ্যায় নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে পদ্ম ফুটেছিল।
তৃণমূল শিবির: রঞ্জন শীলশর্মা মূলত এলাকার মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং উন্নয়নের অভাবকে হাতিয়ার করে এগোচ্ছেন।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির এই ‘মা বনাম ছেলে’র লড়াই উত্তরবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আশীর্বাদ আর অন্যদিকে রাজনৈতিক আক্রমণ— এই দুইয়ের দোলাচলে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ঝোঁকান, সেটাই এখন দেখার।