মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। ফলে দেশে রান্নার গ্যাসের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও, ভারত সরকার এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক চালে সেই বিপদ রুখে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে ভারত এখন বিশ্বের ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে।
এই সংকটে ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬-এর প্রথম তিন মাসেই আর্জেন্টিনা থেকে এলপিজি আমদানি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। কেবল মার্চ মাসেই আর্জেন্টিনা থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ভারতের বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আমেরিকা থেকেও এলপিজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। ২০২৬ সালের জন্য আমেরিকার সাথে ২.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলো।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সংসদে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, ভারতের কৌশলগত ভাণ্ডারে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওড়িশা ও কর্নাটকে আরও নতুন ভাণ্ডার তৈরির কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে যাতে গ্যাসের অভাব না হয়, তার জন্য আর্জেন্টিনা, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো বিকল্প উৎসগুলোকেই এখন হাতিয়ার করছে মোদি সরকার।