ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে সবসময়ই চাপা উত্তেজনা থাকে। কিন্তু মাঝসমুদ্রে বিপদের সময় যেন সেই সীমানা রেখা মুছে গেল এক লহমায়। আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝপথে বিকল হয়ে পড়া একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এল পাকিস্তান নৌবাহিনী। দুই দেশের বৈরিতা দূরে সরিয়ে রেখে মানবিকতার এই নজির এখন আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
মাঝসমুদ্রে হঠাৎ বিপর্যয়
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘এমভি গৌতম’ নামের একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ গুজরাটের পোরবন্দর থেকে ওমানের মাস্কাটের দিকে রওনা দেয়। মাঝসমুদ্রে পৌঁছানোর পর হঠাৎই জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি ভাসতে থাকে। বিপদ আঁচ করতে পেরে জাহাজের কর্মীরা তৎক্ষণাৎ ‘জরুরি বিপদ সঙ্কেত’ (SOS) পাঠান।
সাড়া দিল পাকিস্তান নৌসেনা
মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার থেকে ওই বিপদের খবর দ্রুত পৌঁছায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের কাছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম মেনে পাকিস্তান নৌবাহিনীও কালক্ষেপ করেনি। সেই সময় কাছাকাছি এলাকায় টহল দিচ্ছিল পাক নৌসেনার একটি জাহাজ। খবর পাওয়া মাত্রই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
৭ কর্মীর প্রাণ বাঁচাল পাক সেনার তৎপরতা
বিপজ্জনকভাবে আটকে পড়া ওই জাহাজে মোট সাতজন কর্মী ছিলেন। যার মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। পাক নৌবাহিনীর জওয়ানরা কেবল জাহাজটিকে উদ্ধারই করেনি, বরং আটকে পড়া ওই ক্লান্ত কর্মীদের জন্য পানীয় জল, খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও সরবরাহ করে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও, সময়মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানবিকতা
সমুদ্রে বিপদের সময় দেশগুলোর মধ্যেকার বিভেদ ভুলে একে অপরকে সাহায্য করাই হলো আন্তর্জাতিক দস্তুর। সাম্প্রতিক অতীতেও দেখা গিয়েছে, জলদস্যুদের হাত থেকে বা যান্ত্রিক গোলমাল থেকে দুই দেশের নৌবাহিনী একে অপরের কর্মীদের উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, রাজনীতি বা যুদ্ধ যা-ই থাক, সমুদ্রের বুকে জীবনের দাম সবকিছুর উপরে।
পাক নৌসেনার এই মানবিক আচরণ এবং মাঝসমুদ্রে ভারতীয় জাহাজের উদ্ধারকার্যের পরবর্তী আপডেট পেতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ। দুই দেশের এই সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্টে আমাদের জানান।





