লোকসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং SIR (Social Audit Report)-এ ‘বিরাট’ অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ৬ মার্চ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় ধরনায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার এই মেগা প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে তৃণমূলের এই পদক্ষেপ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
তৃণমূলের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) এবং আবাস যোজনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যে SIR রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে ব্যাপক কারচুপি ও অসঙ্গতি রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার পাওনা আটকে রাখার জন্য এই রিপোর্টে ভুল তথ্য পেশ করছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “SIR রিপোর্টে এমন সব অসঙ্গতি ধরা পড়েছে যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। বাংলাকে ভাতে মারার চক্রান্ত করছে মোদী সরকার। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। ৬ মার্চ থেকেই আমাদের এই লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।”
তৃণমূল সূত্রে খবর, ৬ মার্চের এই ধরনা কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং এখান থেকেই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের মূল সুর বেঁধে দিতে চায় ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরবেন। গত কয়েক মাস ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির কৃষি ভবন থেকে রাজভবন পর্যন্ত একাধিক আন্দোলন করেছেন। এবার স্বয়ং নেত্রী রাজপথে নামায় কর্মীবাহিনীর মধ্যে নতুন করে উৎসাহের জোয়ার দেখা দিয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “রাজ্যের মানুষের হক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে শুরু করে গ্রামীণ রাস্তা তৈরির টাকা—সবই আটকে দেওয়া হয়েছে। আমরা জনগণের আদালতে এর বিচার চাই।” ৬ মার্চের ধরনা কর্মসূচি সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির পালটা হিসেবেই তৃণমূল এবার ‘বকেয়া পাওনা’ এবং ‘রিপোর্টে কারচুপি’র ইস্যুকে সামনে এনে ময়দানে নামছে। ৬ মার্চ ধর্মতলার এই প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেদিন কলকাতার রাজপথ যে সরগরম থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।