উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার দীনেশপুরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এসেছে। এক সুপরিকল্পিত অভিযানে জেলা প্রশাসন এই জালিয়াতি ফাঁস করেছে। মূল অপরাধীকে হাতেনাতে ধরতে গাদরপুরের ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (SDM) রিচা সিং নিজেই একজন সাধারণ ডায়াবেটিস রোগী সেজে পৌঁছে গিয়েছিলেন তথাকথিত সেই চিকিৎসকের চেম্বারে।
আয়ুর্বেদের আড়ালে বিপজ্জনক কারসাজি
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিতিন সিং ভাদোরিয়ার কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে, এক হাতুড়ে ডাক্তার আয়ুর্বেদিক ওষুধের নাম করে মরণফাঁদ পেতেছেন। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে এসডিএম রিচা সিং ছদ্মবেশে ওষুধ কিনে তা ল্যাবে পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আসলে সস্তা অ্যালোপ্যাথিক ডায়াবেটিস ট্যাবলেট গুঁড়ো করে তা আয়ুর্বেদিক ভেষজ ওষুধের সঙ্গে মিশিয়ে রোগীদের দিচ্ছিলেন। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চরম বিপজ্জনক এবং প্রাণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অভিযানে উদ্ধার অস্ত্র ও বন্যপ্রাণীর দেহাংশ
সত্য প্রকাশিত হতেই পুলিশ, ড্রাগ ইনস্পেক্টর এবং জিএসটি বিভাগকে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেই গোপন ডেরা থেকে প্রায় ৬০ হাজার অ্যালোপ্যাথিক ট্যাবলেট, ওষুধ পেষার যন্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ নকল প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। শুধু তাই নয়, তল্লাশিতে একটি অবৈধ পিস্তল, কার্তুজ এবং বিরল হরিণের শিং পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনেও মামলা করা হয়েছে।
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও জালিয়াতির জাল
এসডিএম রিচা সিং জানিয়েছেন, এই ভুয়ো চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক কেবল উত্তরাখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশেও বিস্তৃত ছিল। প্রায় ২০০ জন রোগীর তালিকা পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের অবিলম্বে ওষুধ বন্ধ করে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।





