ভারতের নৌশক্তির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন! দেশের জলসীমাকে অভেদ্য করতে এবার সমুদ্রে নামল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তৃতীয় পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) ‘আইএনএস অরিদমন’ (INS Aridhaman)। শুক্রবার কেরলের এক নৌঘাঁটি থেকে এই ঘাতক ডুবোজাহাজের যাত্রার সূচনা করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন— “শব্দ নয়, ‘অরিদমন’ শক্তি!”
🔥 কেন ভারতের এই সাবমেরিন বিশ্বের কাছে ত্রাস?
পারমাণবিক শক্তি: এটি পরমাণু শক্তি দ্বারা চালিত, ফলে মাসের পর মাস সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকতে সক্ষম।
মিসাইল ক্ষমতা: এটি থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়া সম্ভব, যা শত্রুপক্ষের যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে নিমেষে ছাই করে দেবে।
এলিট ক্লাব: আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং চিনের পর ভারতই একমাত্র দেশ যারা এই ধরনের জটিল ও শক্তিশালী সাবমেরিন তৈরিতে সফল হয়েছে।
🚢 একই দিনে দ্বিগুণ শক্তি: জলে নামল ‘আইএনএস তারাগিরি’
সাবমেরিনের পাশাপাশি এদিন বিশাখাপত্তনমে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস তারাগিরি’-রও উদ্বোধন করেন রাজনাথ সিং।
ওজন ও প্রযুক্তি: প্রায় ৭ হাজার টন ওজনের এই জাহাজটি সম্পূর্ণ ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তিতে তৈরি, অর্থাৎ শত্রুর রাডারের নজর এড়াতে এটি দক্ষ।
ব্রহ্মস অ্যাটাক: এই যুদ্ধজাহাজ থেকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী মিসাইল ‘ব্রহ্মস’ উৎক্ষেপণ করা যাবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বার্তা: রাজনাথ সিং বলেন, “তারাগিরি কেবল একটি জাহাজ নয়, এটি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তির শক্তি ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক।”
📈 ভারতের নৌশক্তির ক্রমবিকাশ
২০০৯ সালে প্রথম পরমাণু সাবমেরিন ‘আইএনএস আরিহান্ট’ লঞ্চের পর ২০২৪-এ এসেছিল ‘আইএনএস আরিঘাট’। এবার সেই তালিকায় তৃতীয় সদস্য হিসেবে যুক্ত হলো ‘অরিদমন’। কয়েক মাস ধরে সমুদ্রে কঠিন পরীক্ষার পর আজ এটি নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হলো।
উপসংহার: সমুদ্রপথে চিনের ক্রমবর্ধমান দাপট মোকাবিলা এবং ভারত মহাসাগরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে ‘আইএনএস অরিদমন’ এবং ‘আইএনএস তারাগিরি’ ভারতের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। মোদী সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।





