মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে যখন পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই তেহরান থেকে এল এক কড়া ও স্পষ্ট বার্তা। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের এই স্বঘোষিত মধ্যস্থতা বা কোনো ফোরাম তৈরির উদ্যোগে তাদের কোনো সায় নেই। ফলে, শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে।
পাকিস্তানের মুখ পুড়ল? সম্প্রতি ইসলামাবাদ দাবি করেছিল যে, তারা ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বরফ গলাতে একটি বিশেষ ফোরাম তৈরি করছে। কিন্তু মঙ্গলবার তেহরানের পক্ষ থেকে নিবেদিতা ভট্টাচার্যের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পাকিস্তানের উদ্যোগে যদি কোনো ফোরাম তৈরি হয়েও থাকে, সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়! এতে ইরানের কোনো ভূমিকা নেই।” তেহরানের এই অনড় মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো তৃতীয় পক্ষের দালালি বরদাস্ত করবে না, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ধাক্কা ইরানের এই অবস্থানের ফলে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান আসলে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গেই কথা বলতে চায়, কোনো ভায়া মাধ্যম ছাড়াই। অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল। ইরান-আমেরিকা সংঘাত এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে কোনো ছোট দেশ মধ্যস্থতা করতে গিয়ে কার্যত দুই নৌকায় পা দেওয়ার মতো অবস্থায় পড়েছে।