শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি যে ‘প্রোটোকল লঙ্ঘন’ ও ‘অসম্মান’ করার অভিযোগ উঠেছে, তাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজনীতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন। আজ বিকেলের মধ্যেই দিল্লির নর্থ ব্লকে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের মূলে ৪টি গুরুতর অভিযোগ: ১. মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি: রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি রাজ্যে আসা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য তাঁকে স্বাগত জানাতে কেন উপস্থিত ছিলেন না? রাষ্ট্রপতির কথায়, “মমতাদি আমার ছোট বোনের মতো। তিনি কি আমার ওপর রাগ করেছেন?” ২. সভাস্থল নিয়ে টালবাহানা: অভিযোগ উঠেছে, বড় মাঠ (বিধাননগর) থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন শেষ মুহূর্তে একটি ছোট ও ঘিঞ্জি এলাকায় (গোসাইপুর) সভার অনুমতি দেয়, যার ফলে বহু সাঁওতাল মানুষ সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। ৩. পরিকাঠামোগত গাফিলতি: সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতির জন্য সংরক্ষিত শৌচাগারে জলের অভাব এবং সভাস্থলের চারপাশে আবর্জনার স্তূপ নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি উষ্মা প্রকাশ করেছে। ৪. ভোটের রাজনীতি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন” বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, তৃণমূল সরকার দেশের একজন আদিবাসী কন্যা তথা প্রথম নাগরিককে অপমান করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা তোপ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের অনুষ্ঠান ছিল। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে পাঠানো অফিশিয়াল ‘লাইন-আপ’-এ তাঁর নাম ছিল না। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন যে, “নির্বাচনের মুখে বিজেপি রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে নোংরা রাজনীতি করাচ্ছে।” এমনকি মণিপুরে আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের সময় রাষ্ট্রপতির ‘নীরবতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আজ বিকেলের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর কেন্দ্র কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।