ভোটের রোদ চড়ছে, বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপও। কিন্তু তার মাঝেই একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিতে ডুব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গরমের ছুটি পড়লেই কীভাবে তাঁর শৈশব বদলে যেত, সেই কথা শোনালেন জনতাকে।
মামাবাড়ির সেই মধুর স্মৃতি: মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ছোটবেলায় গরমের ছুটি পড়লেই তিনি মামাবাড়ি যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতেন। তাঁর কথায়, “গরমের ছুটিতে আমরা সবাই মামাবাড়ি যেতাম। সেই দিনগুলো ছিল অন্যরকম। আমি আজও সেই ভালোবাসার নীতিতেই বিশ্বাসী।” শৈশবের সেই সারল্য আর মানুষের প্রতি ভালোবাসাই যে তাঁর রাজনৈতিক জীবনেরও মূল ভিত্তি, এদিন সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
ভালোবাসার রাজনীতি বনাম বিভেদ: নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে বলতে বিরোধীদেরও একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি:
নীতি ও আদর্শ: তিনি বন্দুকের রাজনীতি বা ভয়ের রাজনীতিতে নয়, বরং মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকার ‘ভালোবাসার নীতি’তে বিশ্বাস করেন।
মানবিক সম্পর্ক: রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সম্পর্কগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বিজেপিকে কটাক্ষ: নাম না করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দিল্লির শাসকরা যখন বিভেদের রাজনীতি করছে, তখন তিনি বাংলার মানুষের সাথে আত্মার সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।
পড়ুয়াদের জন্য স্বস্তি: রাজ্যের বর্তমান গরম আবহাওয়া এবং স্কুলগুলোতে আগাম গরমের ছুটির জল্পনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘মামাবাড়ি’ যাওয়ার স্মৃতিচারণ ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের প্রচারের মাঝে নিজেকে ‘জনতার ঘরের মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরতে এবং আবেগপ্রবণ সংযোগ তৈরি করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই শৈশব-স্মৃতি রোমন্থন।





