বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের জন্য নিজের মনোনয়নপত্র পেশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুপুরে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে তিনি নিজের মনোনয়ন জমা দেন। তবে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ গাড়ির কনভয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পায়ে হেঁটেই আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছান তিনি।
মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়েই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল তৃণমূল নেত্রীকে। তিনি গর্জন করে বলেন, “চিন্তা করবেন না, সরকার আমরাই গড়ছি।” নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি এখানেই থাকি, ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি। এখানেই আমার ধর্ম-কর্ম।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নাম না করে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেগে দেওয়ার কৌশল নিলেন।
তবে এদিনের বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বাংলায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন:
“যাঁরা এখনও বিচারাধীন বা অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে ভোটাধিকার দেওয়া উচিত। মৃত বা ডুপ্লিকেট ভোটার বাদ দেওয়া নিয়ে আপত্তি নেই, কিন্তু জেনুইন ভোটারদের কেন ব্র্যাকেটে রাখা হলো? আমি আবারও বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব।”
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ লড়াকু মেজাজে দেখা যায়। একদিকে যেমন তিনি স্থানীয় ভোটারদের মন জয়ে গুজরাটি ভাষায় অভিবাদন জানান, তেমনই নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলে নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন।





