পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক মহাপ্রলয় ঘটে গিয়েছে। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল আসতেই দেখা গিয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে সরিয়ে বাংলার মসনদ দখল করেছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পরেই সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক হয়ে উঠেছেন ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর পরিচালক বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ে একদিকে যেমন তিনি আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তেমনই তাঁর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে বিঁধেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে।
বিবেক অগ্নিহোত্রী দাবি করেছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁকে বাংলায় কার্যত ‘একঘরে’ করে রাখা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ওপর বাংলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর। একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে বিবেক লেখেন, “আর কখনও না। যারা জানেন না, তাঁদের জানাই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তি পাওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বাংলায় ঢুকতে বাধা দিয়েছিলেন। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে আমাকে বাংলায় পা রাখতে দেওয়া হবে না।”
পরিচালকের নিশানায় ছিল গত বছরের ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ বিতর্কও। তিনি জানান, গত বছর পশ্চিমবঙ্গে তাঁর ছবিটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কলকাতায় ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান চলাকালীন হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁদের মারধর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বিবেক লেখেন, “আমার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। আমি আমার পুরস্কার নিতে রাজ্যপালের কাছেও যেতে পারিনি। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি।”
বিবেকের দাবি, সেন্সরশিপ এবং নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের সময় তাঁরা ‘গোপনে’ এই ছবিটির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। বাংলার এই রাজনৈতিক পালাবদলকে ‘মহান জয়’ হিসেবে বর্ণনা করে বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী বলেন, “আমি আনন্দিত যে আমরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। অবশেষে এই জয় এসেছে। বাংলার জনগণকে অভিনন্দন, এবার আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিবেকের এই মন্তব্য এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে।





