গরমকাল মানেই আম। রসালো ও সুমিষ্ট এই ফলটি পছন্দ করেন না এমন মানুষ কমই আছেন। কিন্তু ওজন কমানোর ডায়েটে থাকলে অনেকেই আম থেকে দূরে থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে চললে ওজন বাড়ার ভয় ছাড়াই কব্জি ডুবিয়ে আম খাওয়া সম্ভব। আজ জেনে নিন আম খাওয়ার ৫টি নিয়ম, যা আপনার ডায়েটকেও ঠিক রাখবে আবার আমের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত করবে না।
ওজন না বাড়িয়ে আম খাওয়ার ৫টি নিয়ম:
১. সঠিক সময় নির্বাচন: আম খাওয়ার সেরা সময় হলো সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবারের মধ্যবর্তী সময়। রাতে খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে আম না খাওয়াই ভালো, এতে হজমে সমস্যা হতে পারে এবং শরীরে ক্যালরি জমা হতে পারে।
২. পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: দিনে এক বা সর্বোচ্চ দুটি মাঝারি সাইজের আমই যথেষ্ট। অতিরিক্ত আম খেলে শরীরে ক্যালরি ও শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই লোভ সামলে নির্দিষ্ট পরিমাণে আম খাওয়া জরুরি।
৩. প্রি-সোকিং বা জলে ভিজিয়ে রাখা: আম খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমের অতিরিক্ত গরম বা ‘হিটিং এফেক্ট’ কমে যায় এবং কীটনাশক বা রাসায়নিকের প্রভাব দূর হয়।
৪. খাবার হিসেবে নয়, জলখাবার হিসেবে: দুপুরের ভরপেট খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে আম খাবেন না। এতে ক্যালরি দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমকে একটি স্বতন্ত্র স্ন্যাকস বা নাস্তা হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. অন্যান্য প্রোটিন বা ফাইবারের সাথে সামঞ্জস্য: আমের সাথে কিছুটা দই বা বাদাম যোগ করতে পারেন। এতে আমের প্রাকৃতিক সুগার সরাসরি রক্তে মিশে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না, ফলে ওজন বাড়ার প্রবণতা কমে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: আমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে যা হজমশক্তি বাড়াতে ও ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস বা স্থূলতার সমস্যা থাকলে আম খাওয়ার আগে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কোনো কিছুই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। পরিমিত ভোজই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।





