২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি। আর এই আবহে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ কোন আসন থেকে প্রার্থী হবেন? নিজের পুরনো ঘাঁটি খড়গপুর সদর না কি অন্য কোথাও? সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং প্রার্থী পদ নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি দলের একনিষ্ঠ কর্মী। দল যেখানে বলবে, সেখানেই লড়ব। তবে খড়গপুরের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক টান রয়েছে। ওখান থেকেই আমার সংসদীয় রাজনীতির হাতেখড়ি।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি ফের নিজের চেনা জমি খড়গপুর সদর আসন থেকেই বিধানসভার লড়াইয়ে নামতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এই খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের দীর্ঘকালীন বিধায়ক জ্ঞানসিং সোহনপালকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে ২০১৯-এ মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি সাংসদ হন।
দিলীপ ঘোষ আরও স্পষ্ট করেন যে, গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে পাঠানো হলেও তিনি মেদিনীপুর বা খড়গপুরের মাটির টান ভোলেননি। খড়গপুরের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রেল শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তিনি ফের ওই এলাকায় সক্রিয় হতে চাইছেন। বিজেপি-র অন্দরেও দিলীপ ঘোষকে নিজের পুরনো কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার জোর জল্পনা চলছে। কর্মী-সমর্থকদের মতে, দিলীপ ঘোষের মতো লড়াকু নেতা খড়গপুরে ফিরলে সংলগ্ন মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম বেল্টেও দলের শক্তিবৃদ্ধি হবে। আপাতত টিকিট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের সংসদীয় বোর্ডের হাতে থাকলেও, দিলীপের ‘রেল শহর’ প্রীতি কিন্তু নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।