কলকাতার আনন্দপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হলো রাজনৈতিক চাপানউতোর। অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত গুদাম দুটি কি জলাজমি বুজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল? এই প্রশ্ন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মঙ্গলবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি সাফ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে কোনো জলাজমি ভরাট হচ্ছে না। যা হয়েছে, তা ২০০৬ সাল বা তারও আগের বাম আমলের ঘটনা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে আনন্দপুরে পৌঁছান মেয়র। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও দমকল কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন শোকার্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে।” তবে গুদাম দুটির বৈধতা এবং ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড বা জলাভূমি দখলের অভিযোগ উঠতেই সুর বদলান মেয়র। তাঁর দাবি, বর্তমানে পরিবেশ দপ্তর অত্যন্ত কড়া। কোথাও জলাজমি ভরাটের খবর পেলেই পুরসভা ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু আনন্দপুরের এই গুদামগুলো অনেক পুরনো, তাই সেগুলিকে রাতারাতি বন্ধ করা রুজিরুটির স্বার্থে সম্ভব হয়নি।
জলাজমি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেয়র কিছুটা মেজাজ হারিয়ে বলেন, “আমার কাছে কোনো ম্যাপ নেই যে দেখে বলব এটা জলাজমি কি না। আইডেন্টিফাই করা খুব কঠিন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কারখানা বা ব্যবসা বন্ধ করে দিলে আবার কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীরা যখন এই ঘটনাকে ‘ম্যান মেড বিপর্যয়’ বলে কটাক্ষ করছেন, তখন ফিরহাদ হাকিমের এই ‘অজানা’ তত্ত্ব এবং পুরনো আমলের দিকে আঙুল তোলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আপাতত মৃত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।