আধার থেকে পাসপোর্ট—সবই জাল! লখনউয়ে ক্লিনিক চালানো বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার

উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ল এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, যে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন ভারতে বসবাস করছিল। ধৃত ব্যক্তির নাম আরফ বাদশি, তবে সে নিজেকে অরূপ বক্সী নামে পরিচয় দিত। বাংলাদেশের নড়াইল জেলার বাসিন্দা এই ব্যক্তি দীর্ঘ বছর ধরে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে ভারতে জাল নথি ব্যবহার করে আস্ত জীবন তৈরি করে নিয়েছিল।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে অত্যন্ত গোপনে ভারতে প্রবেশ করে ওই ব্যক্তি। প্রথমে উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার মহোলি থানার উদরৌলি গ্রামে সে আস্তানা গড়ে। সেখানে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় বা ছলচাতুরির মাধ্যমে সে নিজের নাম পরিচয় বদলে ভারতীয় নথি জোগাড় করার কাজ শুরু করে। তার কাছে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের মধ্যে আধার কার্ড থেকে শুরু করে ভারতীয় পাসপোর্ট—সবই ছিল। যা রীতিমতো প্রশাসনিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

সীতাপুর থেকে পরবর্তী পর্যায়ে সে লখনউয়ের বকশি কা তালাব (বিকেটি) এলাকায় চলে আসে এবং সেখানে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করে। সে কেবল বসবাসই করেনি, বরং জাল ভারতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সেখানে জমি এবং সম্পত্তিও ক্রয় করে। তার এই বহুমুখী প্রতারণার জাল এখানেই শেষ নয়, বিকেটি রোড সংলগ্ন এলাকায় সে একটি ক্লিনিকও খুলছিল। সেখানে সে রীতিমতো ডাক্তার সেজে রোগী দেখত এবং স্থানীয় এলাকায় একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কারও মনেই সন্দেহের উদ্রেক হয়নি।

তবে গোপন সূত্রের খবর পেয়ে তদন্তকারী সংস্থা ও লখনউ পুলিশ একযোগে অভিযানে নামে। গত ১৬ মে বিকেটি থানায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, তার ব্যবহৃত আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং পাসপোর্ট সবই প্রতারণার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ এখন এই রহস্যের গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে যে, কীভাবে একজন বিদেশি নাগরিক এতটা সাহস পায় এবং সম্পত্তি কেনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবা চালানোর মতো কাজে স্থানীয় কারও সাহায্য ছিল কি না। সীতাপুর থেকে লখনউ পর্যন্ত তার প্রতিটি পদক্ষেপ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে এখনও সরাসরি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধরনের অনুপ্রবেশ এবং পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ এই পুরো চক্রটিকে ভেঙে ফেলতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy