আকাশপথে ‘তৃতীয় নয়ন’! বায়ুসেনার বিশেষ ইউনিটে আসছে অত্যাধুনিক ড্রোন, ফাঁস হবে শত্রুর প্রতিটি চাল

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ড্রোন-যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ‘গড়ুড়’ (Garud Special Forces)-এর শক্তি বাড়াতে অত্যন্ত হালকা এবং কৃত্রিম মেধা সম্পন্ন (AI) নতুন প্রজন্মের মাইক্রো ইউএভি (Micro UAV) বা ড্রোন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নতুন ড্রোনের বিশেষত্ব ও ক্ষমতা: প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ড্রোনগুলি হবে সাধারণ ড্রোনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী:

  • উচ্চতা ও প্রতিকূলতা জয়: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬,৪০০ ফুট উচ্চতায় এবং হিমাঙ্কের নিচে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও এই ড্রোন অনায়াসে কাজ করতে পারবে। অর্থাৎ লাদাখ বা অরুণাচল সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ও এখন ভারতের নজরে।

  • ফাঁস হবে গোপন তথ্য: এটি দিন ও রাত— উভয় সময়েই হাই-ডেফিনিশন ভিডিও এবং থার্মাল ইমেজিং পাঠাতে সক্ষম। শত্রুর বাঙ্কার বা লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে ধরা পড়বে কন্ট্রোল রুমে।

  • জিপিএস ছাড়াই নিখুঁত: যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক সময় জিপিএস জ্যাম করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই নতুন ড্রোন GPS-Denied এলাকায় অর্থাৎ সিগন্যাল ছাড়াই নিজের পথ চিনে লক্ষ্যভেদ করতে পারবে।

  • সহজে বহনযোগ্য: মাত্র দুই জন কর্মীর মাধ্যমেই এই ড্রোন রণক্ষেত্রে বহন করা এবং অতি দ্রুত আকাশে ওড়ানো সম্ভব (Man-portable)।

কেন এই পদক্ষেপ? ২০২৬-এর বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে ড্রোনের দাপট দেখেছে বিশ্ব। ভারত সরকারও চাইছে শত্রুর ড্রোন হানা রোখার পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াতে। এছাড়াও বায়ুসেনার জন্য Unmanned Combat Search and Rescue (CSAR) ড্রোনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাইলটদের উদ্ধার করতে সক্ষম হবে।

উপসংহার: ভারতীয় বায়ুসেনার এই ‘আকাশ প্রহরী’রা আসায় সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ বা চোরাগোপ্তা হামলা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। সম্পূর্ণ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে তৈরি এই ড্রোনগুলি ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy