বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের চলমান সংঘর্ষের জেরে অশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। ভারত তার চাহিদার অধিকাংশ তেল আমদানি করায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। গত কয়েক মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১১২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই অস্থিরতা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে তুলছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার উৎপাদন শুল্ক কিছুটা কমালেও, রাজ্যের ভ্যাট বা কর কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যের বর্তমান বিশাল দেনা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের দায়বদ্ধতার কারণে কর কমানোর পথে হাঁটা কঠিন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক অজিতাভ রায়চৌধুরীর কথায়, সামাজিক খাতে বরাদ্দ ও সরকারি কর্মীদের আর্থিক দায়ভারের মধ্যে নতুন করে কর ছাড় দেওয়া বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় চ্যালেঞ্জিং।
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে পেট্রলে ২৫% (অথবা লিটার প্রতি ১৩.১২ টাকা) এবং ডিজ়েলে ২৫% (বা ৭.৭০ টাকা) কর ছাড়াও অতিরিক্ত সেস কার্যকর রয়েছে। একদিকে হরমুজ প্রণালীর জট এবং অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশেষজ্ঞ ও আমজনতা এখন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন, আশায় আছেন কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি হস্তক্ষেপের।





